ছেলেবন্ধুকে হত্যা, দুবাইয়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখে ব্রিটিশ টিকটকার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৪:৫২ পিএম, ২৭ জুন ২০২৬ শনিবার
দুবাইয়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখে ব্রিটিশ টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার ব্রুক জর্জ। ছবি: বিবিসি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে একজন ব্রিটিশ টিকটক ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে তার ছেলেবন্ধুকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রুক জর্জ নামের ওই নারীর বিরুদ্ধে দেশটির আদালতের রায়ে ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে একটি মানবাধিকার সংস্থা। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর দিয়েছে।
তবে ইংল্যান্ডের কেন্ট শহরের বাসিন্দা ব্রুক জর্জের দাবি, একটি সহিংস পারিবারিক বিবাদের সময় তিনি আত্মরক্ষার্থে ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেছিলেন।
অধিকার বিষয়ক সংস্থা ‘ডিটেইনড ইন দুবাই’ জানিয়েছে, গত ২২ জুন ব্রুক জর্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংস্থাটির অভিযোগ, ব্রুকের সঙ্গী তার সঙ্গে উগ্র আচরণ শুরু করেছিলেন, তাকে ঘুষি মেরেছিলেন, তার পাসপোর্ট আটকে রেখেছিলেন এবং তাদের অ্যাপার্টমেন্টে তার ওপর হামলা চালিয়েছিলেন।
‘ডিটেইনড ইন দুবাই’-এর সিইও রাধা স্টার্লিং বিবিসিকে বলেন, ব্রুক জর্জ তার জীবননাশের আশঙ্কা করেছিলেন এবং ঘটনার সময় হাতের কাছে থাকা রান্নার কাজে ব্যবহার করা একটি ছুরি দিয়ে আত্মরক্ষার্থে এই কাজ করেছিলেন।
স্বনামধন্য ব্রিটিশ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জন লুইসের প্রাক্তন কর্মী ব্রুক জর্জকে ২২ জুন ভোরে হেফাজতে নেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে খুনের অভিযোগ আনা হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন।
ব্রুক জর্জের মা থেরেসা জর্জ বলেছেন, তার মেয়ে ভীষণ আতঙ্কিত এবং ঘটনার পরপরই যখন তাদের কথা হয়, তখন তার মেয়ের চোখ দৃশ্যত ফোলা ছিল। তিনি আরও যোগ করেন, তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন তার মেয়ের সাথে যা-ই ঘটে থাকুক না কেন, সে সেখান থেকে মরিয়া হয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিল।
রাধা স্টার্লিং আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জর্জকে হয়তো সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এর পক্ষে তিনি তার প্রেমিকের ব্যাখ্যাহীন আচরণ পরিবর্তন, একমুখী বিমান টিকিট এবং ব্রুকের পাসপোর্টসহ ভ্রমণ নথিপত্র আটকে রাখার বিষয়গুলো উল্লেখ করেন। মানবাধিকার সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ব্রুক জর্জকে দূতাবাসে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি, আইনি পরামর্শদাতার উপস্থিতি ছাড়াই বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে এবং পুরুষ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে একটি অপমানজনক স্ট্রিপ সার্চের (জোর করে পোশাক খোলা) মুখোমুখি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস জানিয়েছে, তারা আটক ব্রিটিশ নারী ও তার পরিবারকে সহায়তা প্রদান করছে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
