ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৪৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৫ এএম, ২৮ জুন ২০২৬ রবিবার
ছবি: সংগ্রহিত।
একের পর এক ভূমিকম্প ও অনুকম্পনে আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। ভয়াবহ দুর্যোগে বিধ্বস্ত দেশটি যখন ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই আবারও নতুন ভূমিকম্পের আঘাতে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আরাগুয়া রাজ্যের উপকূলে ৪ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। নতুন এই কম্পন দেশজুড়ে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইউরোপীয়-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে। তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও, কয়েক দিন আগে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর নতুন করে কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে দেশটিতে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। সেই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখনো প্রায় ৫১ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে উদ্ধার করার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারীদের ধারণা, শত শত ধসে পড়া বহুতল ভবন, ঘরবাড়ি এবং কারাবালেদা এলাকার একটি বিধ্বস্ত সুপারমার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচে এখনো অসংখ্য মানুষ চাপা পড়ে আছেন। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির লা গুয়াইরা রাজ্য। এই রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে রাজধানী কারাকাসের কয়েকটি এলাকাতেও, যেখানে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
এদিকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় করতেও সমস্যা হচ্ছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৬০০ সদস্যের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ সরানো, আহতদের চিকিৎসা এবং জরুরি ত্রাণ বিতরণের কাজ চলছে।
নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের পাশে অপেক্ষা করছেন হাজারো মানুষ। স্বজন হারানোর বেদনা, অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষায় দেশটির বিভিন্ন শহরে এখন শুধুই আর্তনাদ আর হাহাকার। একের পর এক অনুকম্পনের মধ্যেও জীবনের সন্ধানে চলছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া উদ্ধার অভিযান। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা
