টাইব্রেকারে জার্মানিকে বিদায় করে প্যারাগুয়ের ইতিহাস
খেলাধুলা ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:২৬ এএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
বিশ্বকাপ দুঃস্বপ্ন আর পিছু ছাড়লনা জার্মানির।আগের দুই বিশ্বকাপে নকআউটে বিদায় নেওয়া জার্মানরা এবার ঘাম ঝরিয়ে নকআউটে উঠেছিল। তবে এবার সাফল্য বলতে এততুকুই।আধিপত্য দেখিয়েও প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয় পায়নি নাগালসম্যানের দল।
বোস্টন স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার (৩০ জুন) ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে।
বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। নির্ধারিত সময়ে দুই দল একটি করে গোল করে। অতিরিক্ত সময়ে জার্মানির একটি গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। এরপর টাইব্রেকারে গিয়েই নিষ্পত্তি হয় ম্যাচের।
জার্মান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যান দল সাজান ৪–২–৩–১ ছকে। অন্যদিকে প্যারাগুয়ের কোচ গুস্তাভো আলফারো বেছে নেন রক্ষণাত্মক ৪–৫–১ ফরমেশন। বলের নিয়ন্ত্রণ জার্মানির কাছে থাকলেও রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণ করে প্যারাগুয়ে।
তবে প্যারাগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় জার্মানির। দুই ফুলব্যাক জশুয়া কিমিচ ও নাথানিয়েল ব্রাউন আক্রমণে উঠলেও উইং দিয়ে খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারেননি লেরয় সানে ও ফ্লোরিয়ান ভির্টজ। মাঝমাঠে আন্দ্রেস কুবাসের নিবিড় মার্কিংয়ে কাই হাভার্টজও ছিলেন অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
ম্যাচের ৪২ মিনিটে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। কর্নার থেকে প্রথম আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। তবে বল দখল নিয়ে ডান দিক থেকে মাতিয়াস গালারজার ক্রসে হুলিও এনসিসো হেডে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় জার্মানি। ৫৩ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ফ্লোরিয়ান ভির্টজের বাড়ানো বল হেডে জালে পাঠিয়ে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ।
সমতায় ফেরার পর প্যারাগুয়ে কোচ আলফারো আক্রমণভাগে পরিবর্তন এনে কাউন্টার অ্যাটাকের গতি ধরে রাখার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ে আর কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২ মিনিটে কর্নার থেকে জোনাথান টাহর হেডে জালে বল জড়ায় জার্মানি। তবে ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, জার্মান ডিফেন্ডার ওয়ালদেমার আন্তন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে বাধা দিয়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল। স্নায়ুচাপের কারণে কয়েকটি কঠিন ট্যাকলও দেখা যায়। জার্মানির কাই হাভার্টজ ও জামাল মুসিয়ালা এবং প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারজা হলুদ কার্ড দেখেন। শেষ পর্যন্ত ১–১ সমতায় শেষ হয় ১২০ মিনিটের লড়াই।
টাইব্রেকারে জার্মানির প্রথম শটটিই নষ্ট করেন কাই হাভার্টজ। অন্যদিকে মাউরিসিও, গুস্তাভো গোমেজ ও মাতিয়াস গালারজা টানা তিনটি সফল শটে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। জার্মানির হয়ে জশুয়া কিমিচ ও জামাল মুসিয়ালা গোল করলেও চতুর্থ শটে নিক ওল্টমেড ব্যর্থ হন।
তবে নাটক তখনও শেষ হয়নি। প্যারাগুয়ের আন্তোনিও সানাব্রিয়া ও ফ্যাবিয়ান বালবুয়েনা পরপর দুটি শট মিস করলে জার্মানির সামনে সমতায় ফেরার সুযোগ আসে। নাদিয়েম আমিরি সেই সুযোগ কাজে লাগান।
এরপর ভাগ্য নির্ধারণ হয় ষষ্ঠ শটে। জার্মানির জোনাথান টাহ গোল করতে ব্যর্থ হলে ম্যাচ জয়ের সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে। শেষ শটে নয়ারকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান হোসে ক্যানাল। তাতেই ৪–৩ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
