যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড ভাঙা তাপদাহ, ঝুঁকিতে ২৫ কোটি নাগরিক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:০০ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার
ছবি: সংগ্রহিত।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় তিন ডজন অঙ্গরাজ্যে স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সপ্তাহজুড়ে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ আঘাত হানার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশাল আকারের একটি ‘হিট ডোম’ বা তাপবলয়ের কারণে সৃষ্ট এই চরম আবহাওয়ার প্রভাব। এ কারণে দেশটির ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, উচ্চ আর্দ্রতা এবং তীব্র সূর্যালোকের সম্মিলিত প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। অনেক অঞ্চলের জন্য এটি চলতি বছরের সবচেয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ এবং গত কয়েক বছরের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ আবহাওয়া পরিস্থিতি হতে পারে।
আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা আকুওয়েদারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি ২০০০ সালের পর থেকে অন্যতম দীর্ঘ ও তীব্র তাপপ্রবাহের মুখে পড়তে যাচ্ছে। এই সময়ে সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় তাপমাত্রা এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
.
সপ্তাহের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের সমভূমি অঞ্চল থেকে শুরু করে অ্যাপালাচিয়ান পর্বতমালার পশ্চিমাঞ্চল পর্যন্ত তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে ওঠানামা করছে। বুধবার থেকে স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত আটলান্টিক উপকূল ও মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চলেও এই তাপপ্রবাহ ছড়িয়ে পড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, এসব অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক মৌসুমি গড়ের তুলনায় ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি থাকতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় বাইরে অবস্থান করা মানুষের জন্য হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য তাপজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।
আকুওয়েদারের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ অ্যালান রেপার্ট জানিয়েছেন, চরম গরম ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর রেকর্ড পরিমাণ চাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত করার প্রয়োজন হতে পারে।
দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বস্তি মিলবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটিতে টানা তিন রাত তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে না নামার সম্ভাবনা রয়েছে, যা শহরটির জন্য অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কংক্রিটে ঘেরা বড় শহরগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া বসবাসকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদরোগী, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত মানুষ এবং যারা বাইরে শারীরিক শ্রমের কাজ করেন, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একা বসবাসকারী বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ প্রতিবেশীদের খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
আবহাওয়াবিদদের আশা, সপ্তাহের শেষ দিকে জেট স্ট্রিমের গতিপথে সামান্য পরিবর্তনের ফলে তাপবলয়ের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে এর ফলে কয়েকটি অঞ্চলে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
