ঢাকা, মঙ্গলবার ৩০, জুন ২০২৬ ১৮:১৪:২৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ক্ষোভে ফুঁসছে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৪৬ পিএম, ৩০ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

ক্ষোভে ফুঁসছে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তরা

ক্ষোভে ফুঁসছে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তরা

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও স্বজনদের খুঁজে ফিরছেন হাজারো মানুষ। উদ্ধারকাজে ধীরগতি এবং সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাদের অভিযোগ, ভূমিকম্পের পর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যথাযথ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়নি, ফলে অনেক মানুষ হয়তো ধ্বংসস্তূপের নিচেই প্রাণ হারিয়েছেন।

গত বুধবার (২৪ জুন) আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে উল্লেখ করেছেন।

উপকূলীয় প্রদেশ লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধসে পড়া একটি ১২ তলা ভবনের সামনে প্রতিদিন জড়ো হচ্ছেন স্বজনহারারা। উদ্ধারকর্মীরা মাঝে মধ্যেই সবাইকে চুপ থাকার নির্দেশ দেন, যাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে কোনো জীবিত মানুষের আওয়াজ শোনা যায় কি না তা বোঝা যায়।

নিজের একমাত্র ছেলে ৩৪ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল নুনেজকে খুঁজছেন মিগুয়েল অস্কার নুনেজ। তিনি বলেন, আমার ছেলে হয়তো ভূমিকম্পে মারা যায়নি। কিন্তু যদি উদ্ধারকাজে অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়, সেটি হবে সরকারের ব্যর্থতা। আমাদের আরও দ্রুত সহায়তা দরকার ছিল।

আরেক বাসিন্দা কেভিন মন্টিয়া জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। তবে তার স্ত্রী ও ১৬ বছর বয়সী মেয়ে বাড়িতেই ছিলেন।

মন্টিয়া বলেন, প্রথমে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে এলাকার সাধারণ মানুষ। পুলিশ শুধু ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছে, কিন্তু উদ্ধারকাজে অংশ নেয়নি। সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল হতাশাজনক ও অকার্যকর।

বর্তমানে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার উদ্ধারকারী দল ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করলেও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, মূল্যবান কয়েকটি দিন ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে।

লা গুয়াইরার একটি হাসপাতালে ১২ বছর বয়সী গ্রেইডেলিস এবং ১৩ বছর বয়সী গ্রেবেলিসের খোঁজে ছুটছেন তাদের মা ডেইলিসবেথ হেরেরা।

একাই সংসার চালানো এই নারী বলেন, কেউ আমাদের সাহায্য করেনি। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য কোনো যন্ত্র বা উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়নি। মনে হয়েছে আমরা যেন সম্পূর্ণ একা।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার দুই মেয়ে খুব শান্ত ও পড়াশোনায় মনোযোগী ছিল। যেকোনো মূল্যে আমি তাদের ফিরে পেতে চাই।

লা গুয়াইরার বেলো হরিজন্তে আবাসিক এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কোদাল, লোহার রড এমনকি খালি হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা গেছে।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, এখানে দুর্গন্ধ অসহ্য। তারপরও আমরা কাজ করছি, কারণ এখনও কেউ জীবিত থাকতে পারেন। অনেক এলাকায় সাহায্য অনেক দেরিতে এসেছে, আবার কোথাও এখনও পৌঁছায়নি।

৬০ বছর বয়সী হুয়ান অ্যাভেন্দো জানান, ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের চিৎকার শুনে তিনি ও তার ভাতিজা খালি হাতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

অ্যাভেন্দো বলেন, প্রথম রাতে শুধু তাদের চিৎকার শুনছিলাম। ভোর হলে আমরা ধ্বংসস্তূপে ঢুকে প্রথমে একটি পানির বোতল পৌঁছে দেই। পরে অনেক চেষ্টা করে একজন নারীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, সরকারি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় দুই দিন সময় নিয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদরসহ কয়েকটি দেশের উদ্ধারকারী দল অভিযানে অংশ নিলেও রোববার (২৮ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনও শত শত মানুষের মরদেহ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। অনেকের দেহ হয়তো কখনোই উদ্ধার করা সম্ভব হবে না। ফলে এই বিপর্যয়ে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা হয়তো কোনোদিনই জানা যাবে না।