নাটকীয় ম্যাচে প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে শেষ ষোলোতে পর্তুগাল
খেলাধুলা ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:২১ পিএম, ৩ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
নাটকীয়তা আর রোমাঞ্চে ঘেরা এক ম্যাচ। হাইভোল্টেজ ম্যাচ যেমন হওয়ার কথা ঠিক তেমনটাই হলো। একের পর এক আক্রমণ চালালো পর্তুগাল। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না তারা। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধে হজম করে বসে গোল। সেই ধাক্কা সামলে দ্রুতই রোনালদোর গোলে ম্যাচে ফিরেছে পর্তুগাল। এরপর লিখেছে প্রত্যাবর্তনের গল্প। সেই গল্পে হেসেছে রোনালদো আর অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিয়েছেন লুকা মদ্রিচ। ক্রোয়াটদের হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল পর্তুগাল।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় কানাডার টরন্টোতে শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল পর্তুগাল আর ক্রোয়েশিয়া। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়েছে পর্তুগাল।
প্রথমার্ধের বেশির ভাগ সময় আক্রমণের লাগাম ছিল পর্তুগালের হাতেই। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে রাফায়েল লিয়াওয়ের দুর্দান্ত দৌড় থেকে দুটি সুযোগ তৈরি করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। কিন্তু দুইবারই ডমিনিক লিভাকোভিচের অসাধারণ সেভে গোল বঞ্চিত হয় পর্তুগাল। এরপরও বেশ কয়েকটি আক্রমণ গড়লেও গোল আদায় করতে পারেনি তারা। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়া পাল্টা আক্রমণে চেষ্টা চালালেও প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
বিরতির পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৩তম মিনিটে দ্রুত থ্রো-ইন থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে ইয়োসিপ স্তানিসিচের বাড়ানো বল পেয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে ক্রোয়েশিয়াকে এগিয়ে দেন ইভান পেরিসিচ। পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল।
৬০তম মিনিটে বল জালে পাঠিয়েও অফসাইডের কারণে গোলবঞ্চিত হন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে আট মিনিট পর পেনাল্টি থেকে স্বভাবসুলভ ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে দলকে সমতায় ফেরান পর্তুগিজ অধিনায়ক। এটি ছিল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তার ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। একই সঙ্গে চলতি আসরে এটি তার তৃতীয় গোল।
গোল শোধ করার পর ম্যাচের গতি আরও বেড়ে যায়। ৭৫তম মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। মাতেও কোভাচিচের দূরপাল্লার শক্তিশালী শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও গোলের চেষ্টা করেছিলেন তিনি, কিন্তু অসাধারণ এক সেভে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা।
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে রোনালদোকে তুলে নেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন গনসালো রামোস। মাঠ ছাড়ার সময় কিছুটা হতাশই দেখাচ্ছিল পর্তুগিজ অধিনায়ককে। তবে শেষ পর্যন্ত কোচের সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে রাফায়েল লিয়াওয়ের নিখুঁত ক্রসে দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান থেকে উঁচুতে উঠে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান রামোস। বদলি হিসেবে নেমে তার করা সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
তবে নাটকীয়তা তখনও শেষ হয়নি। শেষ বাঁশির বাজার আগমুহূর্তে জশকো গভার্দিওল বল জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরানোর আশা জাগান। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় বিল্ডআপে অফসাইড ধরা পড়ায় গোলটি বাতিল হয়।
এতেই শেষ হয়ে যায় ক্রোয়েশিয়ার স্বপ্ন। ২-১ ব্যবধানের রুদ্ধশ্বাস জয় নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় পর্তুগাল, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন।
