বৃষ্টিতে ডিমের বাজার চড়া, ডজনে বেড়েছে ১০-১৫ টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:১২ পিএম, ১০ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ডিমের বাজারেও। খামার থেকে সরবরাহ কিছুটা কমে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভেজা আবহাওয়ায় সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত কয়েক দিনের তুলনায় ডিমের দাম বেড়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য কিনতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা ও মিরপুর এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লাল ডিম প্রতি ডজন ১৫৫ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। আর খামারভেদে দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত ডিমের চালান ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সড়কে ধীরগতির কারণে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।
কারওয়ান বাজারের ডিম বিক্রেতা আবদুল করিম বলেন, “আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। টানা বৃষ্টি থাকলে সরবরাহ কমে যায়, তখন দাম কিছুটা বাড়ে।”
মালিবাগ বাজারের আরেক ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, “গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি ডজনে প্রায় ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দামে ডিম কিনতে হচ্ছে। যদি আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক হয়, তাহলে বাজারও কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।”
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম বাড়ার মধ্যে ডিমের মূল্যও বাড়ায় সংসারের ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
রামপুরা বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শারমিন আক্তার বলেন, “মাছ-মাংসের দাম আগেই বেশি ছিল। এখন ডিমও আগের দামে পাওয়া যাচ্ছে না। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
মিরপুরের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডিম ছিল সবচেয়ে সাশ্রয়ী আমিষের উৎস। কিন্তু এখন সেটাও আগের মতো সস্তা নেই। বাজারে নিয়মিত নজরদারি দরকার।”
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে ডিমের সরবরাহে চাপ বাড়তে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং খামার থেকে সরবরাহ বাড়লে দাম আবারও কিছুটা কমে আসতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
