ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ১৪:৪৮:২৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

প্রয়োজন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন? হতে পারে ভয়ংকর ক্ষতি

স্বাস্থ্য ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৩ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২৬ বুধবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

জ্বর, গলা ব্যথা, সর্দি-কাশি বা শরীর খারাপ হলেই অনেকেই দ্রুত সুস্থ হওয়ার আশায় অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে ফেলেন। আবার কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছেও অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য জোর করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুধু অকার্যকরই নয়, এটি শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে কাজ করে। যেমন গলার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, কানের সংক্রমণ, ত্বকের সংক্রমণ, মূত্রনালির সংক্রমণ কিংবা কিডনির কিছু সংক্রমণে এটি কার্যকর। কিন্তু সাধারণ সর্দি, মৌসুমি জ্বর, ফ্লু বা করোনা ভাইরাসজনিত অসুস্থতায় অ্যান্টিবায়োটিক কোনো উপকার করে না।

অনেক সময় ভাইরাসজনিত অসুস্থতার লক্ষণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গে মিল থাকায় মানুষ বিভ্রান্ত হন। তবে কোন রোগে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন চিকিৎসক।

বিশেষজ্ঞরা জানান, অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ত্বকে র‍্যাশ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, অ্যালার্জি এবং কিডনি বা যকৃতের কার্যকারিতায় সমস্যা।

এছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে দেয়। বিশেষ করে অন্ত্রের উপকারী জীবাণু হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো নষ্ট হয়ে গেলে ক্ষতিকর জীবাণু সহজে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গুরুতর সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়া। প্রয়োজন ছাড়া বারবার অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিকারের সংক্রমণ হলেও সেই অ্যান্টিবায়োটিক আর কার্যকর নাও হতে পারে। তখন আরও শক্তিশালী ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে, যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বেশি।

এ ধরনের প্রতিরোধ শুধু একজন ব্যক্তির জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে। কারণ ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সহজেই অন্য মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে এমন সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ে, যেগুলোর চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনো অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। কেন এই ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, কতদিন খেতে হবে এবং এটি আদৌ প্রয়োজন কি না—এসব বিষয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।

এছাড়া চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক দিলে সেটি নির্ধারিত নিয়ম মেনে পুরো কোর্স শেষ করতে হবে। মাঝপথে ওষুধ বন্ধ করা, অন্যের অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বা ভবিষ্যতের জন্য ওষুধ জমিয়ে রাখা কোনোভাবেই ঠিক নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক জীবনরক্ষাকারী ওষুধ হলেও এটি তখনই কার্যকর, যখন সঠিক রোগে এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। তাই নিজের ইচ্ছায় নয়, চিকিৎসকের পরামর্শেই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: জাতিসংঘ হেলথ কেয়ার