ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬, জুলাই ২০২৬ ১৪:২২:৩৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে ১২ লাখ পোশাক শ্রমিক, ৬০ শতাংশই নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০৬ এএম, ১৬ জুলাই ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার দ্রুত বিস্তারে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ১২ লাখ ২০ হাজার শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে ২০৪১ সালের মধ্যে এই খাতে নিয়োজিত প্রায় ৬০ শতাংশ নারী কর্মসংস্থান বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রয়োজনীয় নীতিগত প্রস্তুতি না থাকায় আগামী দিনে এমন ঝুঁকির কথা জানিয়ে বুধবার (১৫ জুলাই) সিপিডি এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

‘পরিবর্তনশীল কর্মপরিবেশ : বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মপরিবেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দূরদৃষ্টি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান। 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন দেশের শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মীদের।

ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কর্মসংস্থান কাঠামোয় যে পরিবর্তন আসছে, তার সঙ্গে তাল মেলাতে নীতিনির্ধারকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষাব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার বড় ধরনের অমিল রয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তির হার ২০ শতাংশেরও কম, অন্যদিকে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিশ্ব পরিবর্তন হচ্ছে। কর্মসংস্থান কাঠামোর পরিবর্তন হচ্ছে। নীতি নির্ধারকদের পরিবর্তনের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। দুই কারণে এটা হচ্ছে, একটা হচ্ছে উত্তরাধিকার সূত্র, আর বাজার ও কর্মসংস্থানের ভেতরে মিসম্যাচ আছে। দক্ষতার অভাব, ভৌগলিক কারণ  রয়েছে। অন্যদিকে এআই ও অটোমেশনে বিপ্লব ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ যখন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামোর পরিবর্তন দেশের শ্রমবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। ২০২৪ সালে দেশে প্রায় ১৩ লাখ চাকরি কমেছে, যার প্রায় ৯০ শতাংশই নারী কর্মীদের। অন্যদিকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে এআই ও অটোমেশন ১ কোটি ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করলেও প্রায় ৯০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত করবে। ফলে পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতার ওপরই ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে।

গবেষণায় বলা হয়, বর্তমানে উৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান প্রায় ৮১ লাখে স্থির হয়ে আছে, যদিও উৎপাদন বেড়েছে। অন্যদিকে সেবা খাতে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ কাজ করলেও এর বড় অংশই অনিরাপদ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান। শিক্ষা ব্যবস্থায় অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে শ্রমবাজারের চাহিদার বড় ধরনের অমিল রয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিগরি শিক্ষায় (টিভিইটি) ভর্তি ২০ শতাংশেরও কম এবং শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে সরকারি ব্যয় জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার জোরদার না হলে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা কঠিন হবে।