এআই ঝুঁকি: `মেশিন আমার কাজ করলে, সংসার চালব কীভাবে?`
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:২৮ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২৬ রবিবার
প্রতীকী ছবি।
ভোর ছয়টা। গাজীপুরের একটি শ্রমিকপল্লির সরু গলিতে তখনও পুরোপুরি আলো ফোটেনি। ছোট্ট একটি টিনের ঘরে দিনের কাজ শুরু হয়ে গেছে। চুলায় ভাত বসিয়েছেন এক পোশাকশ্রমিক। পাশে স্কুলব্যাগ গুছিয়ে বসে আছে তাঁর দুই সন্তান। কয়েক ঘণ্টা পরই তাঁকে কারখানায় যেতে হবে।
কারখানায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে তিনি পাশের সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন। আলোচনার বিষয় একটাই—নতুন মেশিন।
কয়েক দিন ধরে কারখানার একটি লাইনে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানো হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, উৎপাদন বাড়বে, কাজ হবে দ্রুত। কিন্তু শ্রমিকদের মনে অন্য প্রশ্ন।
'আমাদের কী হবে?'
তিনি জানেন, সময় বদলাচ্ছে। পৃথিবী বদলাচ্ছে। প্রযুক্তি আসবে, আধুনিক মেশিন আসবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাঁর ভয় অন্য জায়গায়।
বহু বছর ধরে একই ধরনের কাজ করেছেন। কখনও কম্পিউটার চালানো শেখার সুযোগ হয়নি। আধুনিক যন্ত্র পরিচালনারও কোনো প্রশিক্ষণ নেই। যদি একদিন কারখানা বলে, "এই কাজ এখন মেশিন করবে"—তাহলে তাঁর মতো মানুষের সামনে কী পথ খোলা থাকবে?
শুধু নিজের কথাই ভাবেন না তিনি। গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা আছেন। দুই সন্তান স্কুলে পড়ে। মাসের শেষে বেতন না পেলে সংসারের হিসাব মিলবে না। বাড়িভাড়া, বাজার, স্কুলের খরচ—সবকিছু থমকে যাবে।
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকপল্লিগুলো ঘুরে দেখা যায়, এমন উদ্বেগ এখন অনেকের মধ্যেই। কেউ প্রকাশ্যে বলতে চান না। চাকরি হারানোর ভয় আছে। কিন্তু আড়ালে-আবডালে প্রায় একই প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে—
"প্রযুক্তির যুগে আমাদের জন্যও কি জায়গা থাকবে?"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রশ্ন শুধু একজন শ্রমিকের নয়; এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। কারণ এই খাতের সাফল্যের পেছনে যে লাখো মানুষের শ্রম, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে তাঁদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি না হলে সংকট শুধু ব্যক্তিগত থাকবে না—তা একসময় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিতে পারে।
কারখানার সাইরেন বেজে ওঠে। শ্রমিকেরা আবার নিজ নিজ লাইনে দাঁড়ান। মেশিনও চলতে শুরু করে।
একদিকে মানুষের হাত, অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
আগামী দিনের পোশাক শিল্পে—কে কার পাশে থাকবে, আর কে কার জায়গা নেবে—সেই উত্তরই এখন খুঁজছে বাংলাদেশের লাখো শ্রমিক।
