ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ১৮:৩৫:২০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

লামিন ইয়ামালের জীবনের হার নামানা গল্প

খেলাধুলা ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:১৮ পিএম, ২০ জুলাই ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

স্পেনে পা রাখার পর ফাতিমা দিনরাত এক করে কাজ করে গেছেন—সকালের শিফট, বিকেলের শিফট, রাতের শিফট।

কিন্তু কেন?

কারণ মরক্কোতে তখনও পড়ে আছে তাঁর ছেলে আর মেয়ে। প্রতিটা টাকা জমিয়ে, একজনকে টাকা দিয়ে ছেলে মুনিরকে নিয়ে এলেন স্পেনে। তখন তাঁর বয়স মোটে ৩ বছর।

ঠিক একই সময়ে, আফ্রিকার আরেকটি দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে শিলা নামের এক মেয়ে তাঁর মায়ের হাত ধরে বার্সেলোনায় পাড়ি দিচ্ছিলেন। দুটো আলাদা মহাদেশ, দুটো আলাদা সংগ্রাম — অথচ গন্তব্য একটাই।

বছর কয়েক পর বার্সেলোনার রাস্তায় দেখা হয় মুনির আর শিলা ইবানার। শিলা ইকুয়েটোরিয়াল গিনি থেকে তার মায়ের হাত ধরে বার্সেলোনায় পাড়ি দিয়েছিল। মুনির আর শিলার বয়স কম, হাতে টাকা নেই, প্রথমদিকে থাকতেও হয়েছিল অল্পবয়সী বাবা-মায়েদের জন্য বানানো এক আশ্রয়ে। কিন্তু সেই সংগ্রামের মধ্যেই জন্ম নিল একটা পরিবার।

২০০৭ সালের ১৩ জুলাই, তাঁদের কোল আলো করে এলো একটা ছেলে।

তখন মুনির আর শিলা দুজনেই একেবারে কিশোর বয়সের — শিলার বয়স তখন মোটে ১৬! নতুন বাবা-মা হওয়া, সংসার সামলানো, সব একসাথে সহজ ছিল না। ঠিক সেই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু — একজনের নাম লামিন, আরেকজনের নাম ইয়ামাল। এই দুজন মানুষ আর্থিক আর মানসিকভাবে যেভাবে পাশে ছিলেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই মুনির আর শিলা ঠিক করলেন — ছেলের নাম রাখবেন তাঁদের দুজনের নামেই। তারা তারা তাদের প্রথম ছেলের নাম রাখলেন লামিন ইয়ামাল।

সেই বছরই, ইউনিসেফ-এর একটা চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য ক্যাম্প ন্যুতে ফটোশুট চলছিল। বার্সার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় বাচ্চাদের ছবি তোলা হচ্ছিল। মাত্র ২০ বছরের এক তরুণ ফুটবলারের হাতে তুলে দেওয়া হলো একটা প্লাস্টিকের টব, আর তাতে বসানো হলো ৬ মাসের এক ফুটফুটে বাচ্চাকে।

সেই তরুণের নাম লিওনেল মেসি। আর সেই বাচ্চাটাই ছিল লামিন ইয়ামাল।

বছরের পর বছর এই ছবি কারো নজরেই আসেনি। প্রায় দুই দশক পর মুনির নিজে ইনস্টাগ্রামে ছবিটা পোস্ট করে লেখেন — "The beginning of two legends"। নেটদুনিয়া বিশ্বাসই করতে পারেনি প্রথমে। কিন্তু এটাই সত্যি ছিল।

বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর লামিন বড় হয়েছেন মাতারো আর গ্রানোয়ে-র মধ্যে ঘোরাঘুরি করে। স্কুল, প্র্যাকটিস, রাস্তায় বল নিয়ে অনুশীলন — এভাবেই কাটত দিন। রোকাফোন্দার সেই ছেলেটাকে একদিন নজরে পড়ল স্কাউটদের। যে একাডেমি একদিন মেসিকে গড়ে তুলেছিল — লা মাসিয়া — তার দরজা খুলে গেল লামিনের জন্যও।

বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ অভিষেককারী।
স্পেনের হয়ে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা।
মাত্র ১৬ বছর বয়সে UEFA EURO চ্যাম্পিয়ন। গোল করার পর তাঁর সিগনেচার সেলিব্রেশন — হাতের আঙুলে "৩০৪" দেখানো। কারণ ওটা তাঁর ছোট্ট পাড়া রোকাফোন্দার পোস্টাল কোডের লাস্ট তিন ডিজিট। যেখান থেকে এসেছেন, সেটা কখনো ভোলেননি।

টাকা এলো, খ্যাতি এলো — কিন্তু লামিন ইয়ামাল একা ভোগ করেননি কিছুই। মাকে বলেছিলেন, "যে বাড়িটা তোমার পছন্দ, সেটাই বেছে নাও।" মায়ের পছন্দের বাড়িটাই কিনে দিলেন নিজের হাতে। বাবা আর দাদি ফাতিমাকেও এনে দিলেন শান্তির একটা ঠিকানা — বছরের পর বছর কষ্টের পর যেটা তাঁদের প্রাপ্য ছিল।