ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ২৩:১৪:৪৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চাঁদপুরে ইলিশের সঙ্কট, কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ দল

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২৮ পিএম, ২১ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ভরা মৌসুমেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে আশানুরূপ ইলিশ ধরা না পড়ায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটেও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে মাছের সরবরাহ।

ইলিশের সরবরাহ কমার কারণ অনুসন্ধানে সোমবার (২০ জুলাই) চাঁদপুরে কাজ শুরু করেছে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে দলটি এ অনুসন্ধান করছে। দুপুরে দলটি জেলা মৎস্য অধিদপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে। এ সময় জেলার জেলের সংখ্যা, সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা, বিকল্প কর্মসংস্থান এবং ইলিশ কম পাওয়ার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে তথ্য নেন।

চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “চাঁদপুর নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে জেলের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তবে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার, নদীদূষণ এবং মেঘনা নদীতে বিভিন্ন ডুবোচর জেগে ওঠায় ইলিশের স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। এসব কারণ উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে আমরা মনে করি।” পরে বিশেষজ্ঞ দল চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, জেলে ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন।

মাছ ব্যবসায়ীরা বলেন, অন্য বছর এ সময়ে প্রতিদিন এক হাজার থেকে দেড় হাজার মণ ইলিশ বাজারে আসত। এবার প্রতিদিন ১০০ মণ ইলিশও আসছে না। সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে দামও।

তারা বলেন, গত বছর এ সময়ে এক কেজি ওজনের ইলিশ এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে একই আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে দু হাজার ৭০০ থেকে দু হাজার ৮০০ টাকায়।

চাঁদপুর মাছঘাটের ইলিশ ব্যবসায়ী ও মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল বারী মানিক জমাদার বলেন, সরকার ইলিশ রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাটকা সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা, জেলেদের খাদ্যসহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উৎপাদন বাড়ছে না। তাদের ধারণা, নানা কারণে সাগর থেকে পর্যাপ্ত ইলিশ নদীতে আসছে না। পাশাপাশি ইলিশের চাহিদাও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ফলে সরবরাহ কম থাকায় দামও কমছে না।

এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, নদীতে মৎস্যসম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে সুফল মিলছে না। বরং অনেক সময় জেলে ও ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে, আগের তুলনায় ইলিশের সরবরাহ কমেছে। বাজারে বড় ইলিশের তুলনায় ছোট ইলিশের সংখ্যা বেশি। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

তিনি বলেন, নদীর পরিবেশ, পানির প্রবাহ, মাছের চলাচলের পথ, প্রাকৃতিক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করা হবে। তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পর ইলিশের সরবরাহ কমার কারণ ও করণীয় বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ২০০৭ সাল থেকে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর আওতায় নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলে পরিবারকে খাদ্যসহায়তা, প্রণোদনা ও বিকল্প আয়ের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।