ঢাকা, মঙ্গলবার ২১, জুলাই ২০২৬ ২৩:১৪:৪৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৫ পিএম, ২১ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

বরিশালের গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনের একটি কক্ষের গ্রিলে ঝুলন্ত অবস্থায় জান্নাতুল ফেরদাউস (১১) নামের এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে উপজেলার গেরাকুল গ্রামের সীমান্তবর্তী কাসেমাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জান্নাতুল ফেরদাউস নওগাঁর আত্রাই থানার নালুয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। শিশুকাল থেকে সে তার নানা বাড়ি গৌরনদীর কাসেমাবাদ গ্রামের মৃত সাহেব আলী ফকিরের বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গেরাকুল গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক জহুরুল ইসলাম আকনের কাসেমাবাদ এলাকার বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে মিফতাহুল জান্নাহ্ হিফজুল কুরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা নামের একটি আবাসিক প্রতিষ্ঠান করেন মো. আবু ইউসুফ খন্দকার। দুইজন নারী শিক্ষিকা দিয়ে ১৫ জন ছাত্রীকে নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে আসছে। রাতে জান্নাতুল নামের ওই ছাত্রী রহস্যজনকভাবে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। তবে কী কারণে সে গলায় ফাঁস দিয়েছে, তা জানাতে পারেননি তারা। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মৃত জান্নাতের মা সুবর্ণা বেগম জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি কাসেমাবাদ গ্রামে বসবাস করে আসছেন। তিনি আরও জানান, আবাসিক ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে তার মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস অধ্যয়নরত ছিল।

মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রীরা জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যার পর মাদ্রাসার একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। পরে বাহির থেকে জানালার গ্লাস দিয়ে তারা দেখতে পায় ভেতরে কেউ জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। এসময় তারা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন ও মাদ্রাসার দায়িত্বরত ওই দুই শিক্ষিকা বন্ধ দরজা ভেঙে প্রবেশ করে গ্রিলের সঙ্গে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় জান্নাতকে দেখতে পায়। তাৎক্ষণিক তারা ওই ছাত্রীকে নামানোর পর দেখেন মারা গেছে। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়।

গৌরনদী মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানিয়েছেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মৃতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।