ঢাকা, শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ ১৬:৪৩:১৬ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

বৃষ্টিতে সরবরাহে ধাক্কা, সবজি-ডিম-মাছের বাজারে অস্বস্তি

রাতুল মাঝি

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১২ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

বৃষ্টিতে সরবরাহে ধাক্কা, সবজি-ডিম-মাছের বাজারে অস্বস্তি

বৃষ্টিতে সরবরাহে ধাক্কা, সবজি-ডিম-মাছের বাজারে অস্বস্তি

রাজধানীর কাঁচাবাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি ফিরছে না। টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম চড়া। মাছ ও ডিমের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে ব্রয়লার মুরগি ও গরুর মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই।

আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, মগবাজার ও শান্তিনগর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, লাউ, বেগুন, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, পটোল, বরবটি, ঢেঁড়স—প্রায় সব ধরনের সবজিই উচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দাম এখনও সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। বাজারে মাছের সারিতেও ক্রেতার ভিড় তুলনামূলক কম। বিক্রেতারা বলছেন, বেশি দামের কারণে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম কিনছেন।

মালিবাগ বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. কামাল হোসেন বলেন, "প্রতিদিনই মনে হয় বাজারে নতুন করে দাম বেড়েছে। আগে এক হাজার টাকায় তিন-চার দিনের বাজার হতো, এখন এক দিনের বাজার করতেই কষ্ট হচ্ছে। কী কিনব, কী রেখে যাব বুঝতে পারি না।"

শান্তিনগরের বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, "শিশুদের জন্য সবজি, মাছ আর ডিম কিনতেই হয়। কিন্তু সবকিছুর দাম এত বেশি যে সংসারের বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে এসে এখন আর ইচ্ছেমতো কেনাকাটা করা যায় না।"

কারওয়ান বাজারের এক সবজি বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, "বৃষ্টি হলেই গ্রামের ক্ষেত থেকে সবজি কম আসে। পাইকারি বাজারেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আমরা বেশি লাভ করছি না, বেশি দামে কিনে বেশি দামে বিক্রি করছি।"

মাছ বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম জানান, নদী ও ঘের থেকে মাছ সরবরাহ কিছুটা কমেছে। পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে রুই, কাতলা, তেলাপিয়া ও পাঙাশের দাম কিছুটা বেড়েছে।

বাজারে ঘুরে দেখা যায়, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং কাঁচা মরিচ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্ষা মৌসুমে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার তদারকি বাড়ানো গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। অন্যথায় নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য কেনা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নিলে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা সম্ভব হবে।