ঢাকা, শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ ১৬:৪১:২০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:২৭ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে, তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও কোথাও নদীভাঙনের ঘটনাও ঘটছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক পরিবার উঁচু স্থানে কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠতে শুরু করেছে।

বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই পানি বাড়তে শুরু করায় অনেকেই ঘরের আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। অনেকের রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে বা অস্থায়ী চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।

সিলেট অঞ্চলের এক বাসিন্দা বলেন, "রাতের মধ্যে পানি এত দ্রুত বেড়েছে যে ঘরের জিনিসপত্র ঠিকমতো সরাতে পারিনি। এখন নৌকা ছাড়া কোথাও যাওয়া যাচ্ছে না।"

কুড়িগ্রামের এক কৃষক বলেন, "কয়েক মাসের পরিশ্রমে আবাদ করা জমি পানির নিচে চলে গেছে। পানি দ্রুত না কমলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।"

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বন্যাদুর্গত এলাকায় ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড় এবং চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তারা বিশুদ্ধ পানি পান, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

এদিকে, কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আমন ধানের চারা, শাকসবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মৎস্য খাতেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যাকবলিত এলাকায় দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নদীভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়াও প্রয়োজন।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উজানের ঢল এবং বৃষ্টিপাতের প্রবণতার ওপর আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে। তাই নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।