ঢাকা, শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ ১৬:৪০:৫৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ভারতে ছাত্র আন্দোলন তীব্র, সরকারের সঙ্গে বৈঠকেও মিলছে না সমাধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৮ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ভারতে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংলাপ শুরু হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনো ঘোষণা আসেনি। বরং শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের দাবিতে আরও জোরালো কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আন্দোলনের নেতারা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দেশব্যাপী "এক জেলা, এক দিন, এক দাবি" কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, লখনউসহ বিভিন্ন শহরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বহু শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও রাস্তায় নেমেছেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় জাতীয় পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের পর। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাবে লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর ও স্থায়ী সংস্কার দাবি করছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর আইন প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, শুধু নতুন আইন নয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এরই মধ্যে দিল্লির কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কিছু স্থানে মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবায় বিধিনিষেধ আরোপের খবরও পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করেছে; অন্যদিকে সরকার বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আর শুধু প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন নয়; যুবসমাজের বেকারত্ব, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষও এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। সামনের কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে এ আন্দোলন ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।