কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চীন এগিয়ে, বলছে মার্কিন জরিপ
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০২:৪০ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি মার্কিন নাগরিক। মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন ধারণা উঠে এসেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে বর্তমানে চীন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে মাত্র ১২ শতাংশের মতে, এই খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ১৮ শতাংশ মনে করেন দুই দেশ সমান অবস্থানে রয়েছে এবং ৩৩ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন।
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে জরিপটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন নাগরিক চীনকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে ভাবছেন। রিপাবলিকান সমর্থকদের ৩০ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ৪৩ শতাংশ একই মত প্রকাশ করেছেন।
জরিপের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, চীনের দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এআই খাতে দেশের নেতৃত্ব ধরে রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় যে দেশ এগিয়ে থাকবে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত নেতৃত্বও অনেকটাই তার হাতে থাকবে।
ট্রাম্প আরও জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হবে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও এআই নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, চীনের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান মুনশট এআই যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল থেকে তথ্য সংগ্রহ বা ‘ডিস্টিলেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে উন্নত এআই প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্র এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তবে দুই পরাশক্তির মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
