ঢাকা, শুক্রবার ২৪, জুলাই ২০২৬ ১৮:০৬:০৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

কারাগারের নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে এআই প্রযুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৪৮ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

কারাগারের ভেতর থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, অবৈধ মোবাইল ফোন ব্যবহার, মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশ এবং বন্দিদের পালানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করছে কারা অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন কারাগারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।

কারা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, প্রচলিত নজরদারি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। নতুন এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলো শুধু ভিডিও ধারণই করবে না, বরং সন্দেহজনক আচরণ, নিষিদ্ধ বস্তু বহন কিংবা নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত পেলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা পাঠাবে।

সম্প্রতি রাজধানীর রামপুরায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে ‘কাইল্লা পলাশ’ হত্যাকাণ্ডের পর কারাগারের ভেতর থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কারাগারে থাকা দুই শীর্ষ সন্ত্রাসী এই হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া কাইল্লা পলাশ পরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।

কারা সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরেই কারাগারের ভেতর থেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং অপরাধী চক্র নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কারাগারে মাদক ও নিষিদ্ধ পণ্য প্রবেশ এবং আদালতে আনা-নেওয়ার পথে বন্দিদের পালানোর চেষ্টাও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রথম ধাপে কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারেও একই ধরনের প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য কারাগারেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন বলেন, আগে কোনো ঘটনা ঘটার পর তার কারণ ও দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হতো। এখন প্রযুক্তির সহায়তায় সম্ভাব্য ঝুঁকি আগেই চিহ্নিত করে অপরাধ প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি জানান, নতুন এআই ক্যামেরা কারাগারের ভেতরে অস্ত্র, মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বস্তু বহনের চেষ্টা শনাক্ত করতে পারবে। কোনো বন্দি পালানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বেজে উঠবে। এমনকি নির্দিষ্ট ধরনের সন্দেহজনক আচরণ বা কথোপকথনের ধরন বিশ্লেষণ করেও সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করতে সক্ষম হবে এই ব্যবস্থা।

কারাগারে অবৈধ মোবাইল ফোনের ব্যবহার রোধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কারাগারে মোবাইল নেটওয়ার্ক জ্যামার বসানো হয়েছে। এর পাশাপাশি নজরদারি আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় শুধু বন্দিরাই নয়, কারা কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনও পর্যবেক্ষণের আওতায় আসবে। দায়িত্বে অবহেলা, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে নিষ্ক্রিয় থাকা বা দায়িত্ব পালনকালে ঘুমিয়ে পড়ার মতো ঘটনাও এআই ক্যামেরা শনাক্ত করবে। এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কারা সদর দপ্তরে পৌঁছে যাবে, ফলে জবাবদিহি ও তদারকি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কারা কর্তৃপক্ষ।