কে হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি? রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরছে যেসব নাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৫:০৪ পিএম, ২৪ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
প্রতীকী ছবি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন এক সাংবিধানিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্ন—বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন?
যদিও সরকার বা ক্ষমতাসীন দল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নাম ঘোষণা করেনি, তবু রাজনৈতিক মহল, সংসদ সদস্য এবং প্রশাসনিক অঙ্গনে কয়েকটি নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্ষমতাসীন দলের সংসদীয় নেতৃত্ব। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কারণে তাদের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। তবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করা আর স্থায়ীভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া—দুই বিষয় এক নয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে তিনি স্থায়ীভাবে এ পদে আসবেন কি না।
অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বা জ্যেষ্ঠ বিচারপতি
বাংলাদেশে অতীতে একাধিকবার আইন ও বিচার অঙ্গনের ব্যক্তিরা রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ এবং সাংবিধানিক বিষয়ে অভিজ্ঞ কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে—এমন আলোচনাও রয়েছে। এ কারণে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিংবা সুপ্রিম কোর্টের সাবেক জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের নাম অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় উঠে আসছে।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ
দেশের কোনো বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য কিংবা জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য বুদ্ধিজীবীকেও রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। বিশেষ করে জাতীয় ঐকমত্যের বার্তা দিতে দলীয় রাজনীতির বাইরে গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
কূটনীতিক বা সাবেক আমলা
বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব, পররাষ্ট্রসচিব কিংবা অভিজ্ঞ কূটনীতিকদের মধ্য থেকেও কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে ধারণা থাকায় এ ধরনের ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি বা সমাজসেবার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্ব
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে জাতীয়ভাবে সম্মানিত কোনো সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজসেবক বা জনজীবনে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেও মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে হবে
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যার হাতে, তাদের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এর আগে ক্ষমতাসীন দল সম্ভাব্য প্রার্থী চূড়ান্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নাম নেই
রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা নাম ঘুরে বেড়ালেও সরকার, ক্ষমতাসীন দল বা সংসদ সচিবালয় এখন পর্যন্ত কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন নামকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্ষমতাসীন দলের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করবে দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন।
