ঢাকা, শনিবার ২৫, জুলাই ২০২৬ ১১:৪৩:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট, ভোগান্তি চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩০ এএম, ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকটে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। গত কয়েকদিন থেকে ভোর থেকেই পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ, রামপুরা, নয়াপল্টন, মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, মালিবাগ, বাড্ডা, খিলগাঁও ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চুলায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম। কোথাও কোথাও চুলা শুধু মিটমিট করে জ্বলেছে, আবার অনেক এলাকায় একেবারেই গ্যাস না থাকায় রান্না বন্ধ হয়ে যায়।
দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে অধিকাংশ পরিবারের রান্নাঘরে একই চিত্র। চুলায় আগুন জ্বললেও তা দিয়ে ভাত কিংবা তরকারি রান্না করা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা, এলপিজি কিংবা হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ভোগান্তি  বেড়েছে।

মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, জিগাতলা ও রায়েরবাজার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব এলাকায় গত তিন-চারদিন ধরেই গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক নয়। গতকাল শুক্রবার পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। অনেক বাসায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চুলায় আগুনই জ্বলেনি।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, ‍“গত তিন-চারদিন ধরে গ্যাসের চাপ খুবই কম। আজ তো একেবারেই চুলা জ্বলছে না। বাইরে থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”

রায়েরবাগের গৃহিণী সায়লা আক্তার বলেন, “সকালে পরিবারের জন্য নাশতা বানাতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেও চুলায় আগুন ঠিকমতো জ্বলেনি। ছোট বাচ্চাদের খাবার রান্না নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি।”

যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা আবদুল ওহাব বলেন, “অফিসে যাওয়ার আগে বাসায় রান্না হয়নি। গত কয়েকদিন ধরেই গ্যাসের সমস্যা ছিল, কিন্তু আজ পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।”

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতেও। নয়াপল্টনের একটি খাবারের দোকানের মালিক জানান, গ্যাসের অভাবে সময়মতো রান্না করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্রেতাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে, আবার কেউ কেউ খাবার না পেয়েই ফিরে গেছেন।

এদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় অনেক স্টেশন স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র এবং যুগ্ম সচিব (অপারেশন) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, “দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতেও গাড়ির দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।” 

তিনি বলেন, “মেরামতের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। পাশাপাশি সীমিত গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা চলছে।