ঢাকা, রবিবার ২৬, জুলাই ২০২৬ ০:২৮:৪৬ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

‘মিস গ্রেট ব্রিটেন’ ফাইনালিস্ট বাংলাদেশি তানিশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২৫ পিএম, ২৫ জুলাই ২০২৬ শনিবার

তানিশা জামান

তানিশা জামান

তানিশা জামানের জন্য মিস গ্রেট ব্রিটেন লন্ডনের একমাত্র প্রকাশ্য ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ফাইনালিস্ট হওয়াটা কেবল বিজয়ের মুকুট অর্জনের প্রতিযোগিতা নয়; এর চেয়েও বড় কিছু। ২০ বছর বয়সী এই তরুণ সমাজকর্মী প্রতিযোগিতাটিকে প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা, তরুণীদের নিজেদের নিজস্বতা উদ্‌যাপনে উৎসাহিত করা এবং সঠিক প্রতিনিধিত্ব কীভাবে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে তা প্রমাণ করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

ইস্টার্ন আই-এর সাথে কথা বলার সময়, তানিশা শৈশবে প্রচলিত সৌন্দর্যের ধারণায় খাপ খাইয়ে না নেওয়ার অভিজ্ঞতা, পরিবর্তনের মঞ্চ হিসেবে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতাকে বেছে নেওয়ার কারণ এবং প্রতিযোগিতার গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি কী বার্তা রেখে যেতে চান, তা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন।

তানিশা স্বীকার করেন, তিনি কখনোই ভাবেননি যে একদিন তিনি বিউটি পেজেন্টের মতো কোনো মঞ্চে দাঁড়াবেন। পূর্ব লন্ডনে বেড়ে ওঠার দিনগুলোতে তিনি প্রায়শই নিজেকে দুটি আলাদা সংস্কৃতির মাঝে আটকে পড়া এক মানুষ বলে মনে করতেন। তার মনে পড়ে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সমাজ এবং মূলধারার ব্রিটিশ সমাজ—উভয়ক্ষেত্রেই সৌন্দর্যের প্রচলিত মানদণ্ডের তুলনায় তাকে "বেশি কালো", "বেশি লম্বা" এবং "বেশি চওড়া" বলে মনে করা হতো।

"বাংলাদেশি সমাজেই হোক কিংবা ব্রিটিশ সমাজে—আমাকে কখনোই 'সুন্দর' হিসেবে গণ্য করা হয়নি," বলেন তিনি।
মিস গ্রেট ব্রিটেন লন্ডনের ফাইনালিস্ট হতে পারা তাই তার জন্য এক গভীর ব্যক্তিগত মাইলফলক।"যে প্রতিযোগিতাটি মূলতঃ রূপের প্রতিযোগিতা, সেখানে এত দূর আসতে পারাটা  তানিশার মনের গভীর কোনো ক্ষতকে শান্ত করে দেয়।"

যে রোল মডেল তিনি নিজে পাননি, সেই রোল মডেল হওয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি তৈরি হয়েছিল তানিশার মেন্টরিং করা তরুণীদের দেখে। নিজের সংস্থা 'তানিশাস ট্যালেন্ট'-এর মাধ্যমে তিনি পুরো লন্ডন জুড়ে কর্মজীবী পরিবার ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মেয়েদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি, জনসমক্ষে কথা বলা এবং নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করেন।

তিনি লক্ষ্য করেন, এই তরুণীদের অনেকেই শৈশবে তার অভিজ্ঞতা করা একই রকম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। একই সাথে তিনি বুঝতে পারেন, তাদের নিজস্ব সামাজিক প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতাকে তুলে ধরার মতো কোনো পাবলিক রোল মডেল আশেপাশে নেই।"তাই আমি ভাবলাম, আমাকেই সামনে আসতে হবে এবং তাদের জন্য সেই রোল মডেল হতে হবে। কারণ আমি যদি না করি, তবে আর কে করবে জানি না," বলেন তিনি।