ঢাকা, বুধবার ১৫, জুলাই ২০২৬ ০:০৪:৩০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

#মি-টু : নিপীড়নকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৩১ পিএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার

#মি-টু আন্দোলনের পক্ষে আয়োজিত মানববন্ধনে সমাজের সকল স্তরের মানুষের প্রতি নিপীড়নের শিকার মানুষের পক্ষে দাঁড়ানো এবং নিপীড়নকারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা। 

 

আজ রোববার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র। এ কর্মসূচিতে সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মীসহ নানা শ্রেণী-পেশার নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।

 

বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, “আমরা স্যালুট জানাই মি টু আন্দোলনের অংশ হিসেবে যারা মুখ খুলেছেন। কারণ তারা সাহস করেছেন, সেই সাহস আমি পাচ্ছি না। তিন বছর থেকে এই পর্যন্ত আমরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। নির্যাতনের শিকার হয়নি, এমন মেয়ে কেউ নেই।”

 

নারীর ওপর নির্যাতন, হয়রানি, লাঞ্ছনা বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা মুখ খুলেছে তারা সাহসী, আগামীতে তাদের পথ ধরে আরও অনেকে এগিয়ে আসবে। যাদের বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তারা যেসব অফিসে কর্মকর্ত আছেন তাদের কর্তৃপক্ষকে বলেছি যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন বলেন, নারী অবশ্যই অনেক বেশি নির্যাতনের শিকার হয়, কিন্তু একইসঙ্গে পুরুষেরা নির্যাতনের শিকার হয়।

 


নিপীড়নের বিরুদ্ধে অল্প কিছু নারী ও পুরুষ # মি টু আন্দোলন করলেও এই নির্যাতনের বিষয়টি সবার জানা আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঘরের মধ্যে আমাদের নিজেদের লোক, রাস্তাঘাটে যে কেউ দুর্বলকে নির্যাতন করে। # মি টু কেবল একটা কথা শুরু করেছে। যে জিনিসগুলো আমরা জানতাম কিন্তু চুপ করে থাকতাম, সেই জিনিসগুলোকে স্পষ্ট করছে, সামনে আনছে।”

 


মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির বলেন, “যে নারীরা মুখ খুলেছেন, তারা শুধু মুখ খোলেনি সমাজে নিপীড়কদের চেহারা, তাদের চরিত্র ও পরিচয় উন্মুক্ত করেছে। এসব নারীদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”

 

তিনি বলেন, “# মি টু আন্দোলনে দেখেছি, কিছু কিছু ব্যক্তি আমাদের পরিচিত। তারা প্রগতিশীল লেবাসধারী হয়ে তারা মনে করছে, একটা অসহায় ও দুর্বল মেয়ের গায়ে হাত তুলতে পারবে। এই মেয়েরা আজকে মুখ খুলছে। মি টু আন্দোলনে শুধু নয়জনই না, আস্তে আস্তে সকল নারীরা মুখ খুলবে এবং এদের সবার চেহারা উন্মোচন করবে।

 


নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক পারভীন সুলতানা ঝুমা বলেন, বাংলাদেশে মি-টু আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে হবে। নিপীড়নবিরোধী হাইকোর্টের যে রায় রয়েছে তা কার্যকর করতে আমাদের কাজ করতে হবে। আমাদের যুদ্ধ নিপীড়কের বিরুদ্ধে, পুরুষের বিরুদ্ধে নয়।

 

বাংলা ভিশনের নিউজ এডিটর শারমিন রিনভী বলেন, ‘এতদিন পরে আইসব্রেক হতে চলেছে। এ আন্দোলন ছেলেদের বিরুদ্ধে নয়, এ আন্দোলন নিপীড়কের বিরুদ্ধে। আমাদের ভাই আছে, বাবা আছে, বন্ধু আছে, সবাই কিন্তু খারাপ নয়। যারা খারাপ তাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য এই আন্দোলন।’

 

নারীবিষয়ক অনলাইন পত্রিকা উইমেননিউজের সম্পাদক আইরীন নিয়াজী মান্না বলেন, মেয়েরা নির্যাতনের বিষয়টি উন্মুক্ত করতে পেরেছে। সেই নয় নারীকে আমি ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জানাই যারা তাদের নির্মমতার কথা প্রকাশ করেছে। আমরা নারী পুরুষ নির্বিশেষ মুক্তভাবে চলাচলের মতো সমাজ চাই। সমাজের সব পুরুষ খারাপ না। যারা খারাপ তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক। মাত্র শুরু হয়েছে সেই আন্দোলন। এ আন্দোলন চলবে। 

 

#মিটু আন্দোলনের পক্ষে মুখ খোলা নয়জন নারীর একজন মুসফিকা লাইজু মানববন্ধনে বলেন, ‘৩১ বছর পর আমি আমার কথা বলতে পেরেছি। আমি আজ আনন্দিত। কে আমার পক্ষে লিখলো বা লিখলো না, তা আমি ভাবিনি। এই মাঝ বয়সে এসে আমি ভেবেছি, যদি এই কষ্টটা মনের মধ্যে চাপা রেখে মারা যাই তবে আরেকটা অন্যায় করা হবে। বেঁচে থাকতে অন্যায় প্রশ্রয় দিতে পারি না। সেজন্যই আমি #মিটুতে এসেছি।’


লাইজু বলেন, “যখন আমি এ কাজটি করেছিলাম তখন আমি কোনো কিছু ভেবে-চিন্তে করিনি। এমনকি আমার যে পার্টনার তার মতামত না নিয়েই বলেছি। আমি ভেবেছি ৩১ বছর পর আমি যথেষ্ট পরিণত, কেউ আমার পাশে না থাকলেও আমি একাই সোচ্চার থাকব। এই কষ্ট বুকে নিয়ে মরে গেলে সেটা অন্যায় হবে।

 

ঢাকা রির্পোর্টাস ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ বলেন, যৌন নিপীড়কদের আমরা সমাজ থেকে রুখে দিতে চাই। নারী-পুরুষ মিলে সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে চাই। কোনো প্রতিষ্ঠানে যেন নারী-পুরুষ বিভেদ না থাকে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দুষ্কৃতকারীদের কোথায়ও জায়গা হবে না। 

 

দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি শেখ মামুন বলেন, আন্দোলন আমাদের সকলের। তাদের মুখোশ উন্মোচন করে দিতে হবে যারা মেয়েদের প্রতি অনৈতিক আচরণ করে।

 

ইত্তেফাকের কূটনৈতিক সম্পাদক মাইনুল আলম বলেন, নারী সাংবাদিক কেন্দ্র আজ সময়োপযোগী আন্দোলন শুরু করেছে। আমি এতে একাত্মতা প্রকাশ করছি। আজকের আন্দোলন আমাদের চোখ খুলে দেবে, দিক নির্দেশনা দেবে। 

 

সাংবাদিক নাদিয়া শারমীন বলেন, #মিটু আন্দোলন শুধু নারীদের নয়, পুরুষদেরও মুখ খুলতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি যৌন নিপীড়নের শিকার শুধু নারী নয় পুরুষও। তাই সকলকে একসাথে এ আন্দোলন করতে হবে।