ঢাকা, মঙ্গলবার ২৮, জুলাই ২০২৬ ১৪:৩২:২৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

গ্যাসের ঘাটতিতে বাড়ছে বিদ্যুৎ ও শিল্প সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:১৫ এএম, ২৮ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) টার্মিনাল কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে আমদানি করা এলএনজির সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা, গৃহস্থালি ও সিএনজি খাতে গ্যাসের ঘাটতি তীব্র হয়েছে।

একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ সংকটের কারণে আপাতত নতুন শিল্প-সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সাধারণ সময়ে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে প্রায় ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে দেশীয় উৎপাদন প্রায় ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট।

পেট্রোবাংলার দৈনিক উৎপাদন ও বিতরণ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০ জুলাই এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ছিল ৯৯ কোটি ৩৫ লাখ ঘনফুট। ২৫ জুলাই তা কমে দাঁড়ায় ৫০ কোটি ১১ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ পাঁচ দিনে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ কমেছে ৪৯ কোটি ২৪ লাখ ঘনফুট বা প্রায় ৫০ শতাংশ।

এই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। দৈনিক প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হয়েছে। তবে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় মোট গ্যাস সরবরাহ ২৬৪ কোটি ১ লাখ ঘনফুট থেকে কমে ২১৫ কোটি ১৭ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে দৈনিক প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংকটের মূল কারণ

বাংলাদেশের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। সমুদ্রপথে আমদানি করা এলএনজি এসব টার্মিনালে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। এর একটি টার্মিনাল কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকায় বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, ত্রুটিগ্রস্ত টার্মিনাল থেকে আগামী সপ্তাহে আংশিক গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রথম ধাপে দৈনিক ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের পরিচালন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০ জুলাই বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ ছিল ৯২ কোটি ৬৮ লাখ ঘনফুট। ২৫ জুলাই তা কমে দাঁড়ায় ৬৯ কোটি ৮৯ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ পাঁচ দিনে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ২২ কোটি ৭৯ লাখ ঘনফুট বা প্রায় ২৪ দশমিক ৬ শতাংশ।

এর প্রভাবে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। দৈনিক উৎপাদন ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৬৮ হাজার ইউনিট থেকে নেমে হয়েছে ৯ কোটি ৩৯ লাখ ৮৪ হাজার ইউনিট। মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অংশও ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশে নেমেছে।

লোডশেডিং বেড়েছে কয়েক গুণ

২০ জুলাই সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৫১১ মেগাওয়াট এবং উৎপাদন ছিল ১৫ হাজার ৩৩২ মেগাওয়াট। ২৫ জুলাই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৬৯৩ মেগাওয়াটে, কিন্তু উৎপাদন হয় ১৫ হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট।

ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধান ১৭৯ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৯০৮ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

২০ জুলাই সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ২৫৩ মেগাওয়াট। ২৫ জুলাই রাত ১১টায় তা বেড়ে সর্বোচ্চ ৯৬২ মেগাওয়াটে পৌঁছে। ওই সময়ে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং ছিল ময়মনসিংহ, সিলেট, ঢাকা ও খুলনা অঞ্চলে।

গৃহস্থালি ও শিল্পে সংকট তীব্র

গ্যাস সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে তিতাস গ্যাসের আওতাধীন ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ এলাকায়।

২০ জুলাই তিতাসের মোট গ্যাস বিতরণ ছিল ১৪৮ কোটি ১ লাখ ঘনফুট। ২৫ জুলাই তা কমে দাঁড়ায় ১২০ কোটি ৯৪ লাখ ঘনফুটে। অর্থাৎ পাঁচ দিনে বিতরণ কমেছে ২৭ কোটি ৭ লাখ ঘনফুট বা ১৮ শতাংশের বেশি।

তিতাসের আওতাধীন এলাকায় দৈনিক প্রায় ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সর্বশেষ সরবরাহ ছিল প্রায় ১২১ কোটি ঘনফুট। ফলে প্রায় ৭৯ কোটি ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাবে রাজধানীর অনেক এলাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক পরিবার বিদ্যুচ্চালিত চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে, এতে বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়ছে।