টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি, অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৬:৩১ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে মাঝিমাল্লাসহ আরও অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাট সংলগ্ন সাগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানা গেছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান তীব্র সংঘাতের কারণে প্রাণভয়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করছিল রোহিঙ্গারা। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় নৌকাটি পৌঁছালে ঢেউয়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করেন।
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে আসার সময় নৌকাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
স্কুলফেরত শিশুকে উত্ত্যক্ত করে টিকটক ভিডিও, গ্রেপ্তার ১
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া জেলে মো. ইসমাইল জানান, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি ১৩ জনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে নৌকার মাঝিমাল্লাও রয়েছেন। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু নেই।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা মূলত বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির থেকে আগে মিয়ানমারে গিয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তবে এই দাবির বিষয়ে বিজিবি বা অন্য কোনো দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, "শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা কী উদ্দেশ্যে এবং কেন বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, তা অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।"
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত তীব্র হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে সাগর ও নদীপথে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের প্রবণতা বেড়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নাফ নদী ও সংলগ্ন উপকূলে স্থানীয় জেলে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছেন।
