নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘাতে নিহত ৩: সান্ধ্য আইন জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৬:৪৬ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
দক্ষিণ নেপালে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্য ঘটে যাওয়া সহিংসতায় অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জেলায় সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করেছে দেশটির প্রশাসন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জনগণকে ধৈর্য ধরে সম্প্রীতি বজায় রাখার আকুল আহ্বান জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ (বালেন শাহ)।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের সীমান্তবর্তী সুনসারী জেলায় গত রোববার একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রায় উচ্চশব্দে গান বাজানো এবং ধর্মীয় পতাকা টানানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হন বলে জানান পুলিশ মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে। পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী সিরাহা জেলায় কারফিউ অমান্য করে চলা বিক্ষোভ চলাকালে গতকাল বৃহস্পতিবার আরেকজনের মৃত্যু হয়।
সহিংসতা প্রতিরোধে সুনসারী ও তার আশেপাশের জেলাগুলোতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সান্ধ্য আইন কার্যকর করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, জনসম্পদ রক্ষা ও সংঘাত থামাতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত মার্চে দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে দেওয়া আনুষ্ঠানিক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে আমি সব নাগরিক, সুশীল সমাজ, ধর্মীয় গোষ্ঠী, সকল সম্মানিত নেতা, রাজনৈতিক দল ও দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি— আপনারা ধৈর্য ধরুন, সংযম বজায় রাখুন এবং দেশের শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষা করুন।"
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, সহিংসতার ঘটনার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে এবং এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, নেপালের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ হিন্দু হলেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠী বসবাস করে।
