ঢাকা, রবিবার ০২, আগস্ট ২০২৬ ৪:২৯:৩৪ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ঢাকায় দিনের বেলা ঘরে ঢুকে নারী চিকিৎসককে হ/ত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:৫০ এএম, ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলিতে থেকে এক নারী চিকিৎসককে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে দূর্বৃত্বরা। ঘটনাটি ঘটে ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। খুন হওয়ার পাশাপাশি ঘরের জিনিসপত্র লুট হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ি এলাকার শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। তার স্কুল পড়ুয়া দুটি ছেলে রয়েছে ও এক মেয়ে। তবে ঘটনার সময় ওই নারী বাসায় একাই ছিলেন বলে জানিয়েচেন পুলিশে

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে সারা রোকসানাকে হত্যা করে। পরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের ছেলে বলেন, আমি বাসায় ছিলাম না। পরে এসে দেখি আমার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে। বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার আম্মুর কাছে যত স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, স্বর্ণালংকারের জন্যই দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকেছে বলে তাদের ধারণা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় সারা রোকসানা বাসায় একাই ছিলেন। তার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে ছিলেন এবং মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, বিকেল ৩টার পর গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের জিনিসপত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব বলেন, সাধারণত স্কুল ছুটির পর নিহত নারী মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন তিনি স্কুলে না যাওয়ায় মেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে শিক্ষক তার বাবাকে খবর দেন।
এসআই হাবিব জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। তখন নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।