‘ককরোচ’ আর বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন এক না: তসলিমা নাসরিনকে অভিজিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪১ পিএম, ৪ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি)’ আন্দোলনার তুলনা করে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন যে মন্তব্য করেছেন, তার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক অভিজিত দিপক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে আমাদের আন্দোলনের কোনো মিল নেই। আমরা এক নই।’
সোমবার (৩ আগস্ট) বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিত দিপকে বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের তুলনা করা হচ্ছে কেবল তাদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে।
এর আগে কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন মন্তব্য করেন, ভারতের সিজেপির আন্দোলনের ভিডিও দেখে তাঁর ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে প্রথমে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।
তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন আমাদের বোকা বানিয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা শুধু কোটা পদ্ধতি বাতিল চায়। পরে দেখলাম আন্দোলনের পেছনে উগ্রপন্থিরা ছিল। এর ফল বাংলাদেশের জন্য ভালো হয়নি।’
এই বক্তব্যের জবাব দিয়ে অভিজিত দিপকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের তুলনা করা হচ্ছে শুধু আমাদের বদনাম করার জন্য। আমরা এক না।’
তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব আরও বেড়েছে। শিগগিরই সংগঠনটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান–এর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
শিক্ষার্থী, শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থনে আন্দোলন আরও জোরালো হয়। টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। পরে নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান প্রহ্লাদ যোশী।
তবে সিজেপি জানিয়েছে, প্রহ্লাদ যোশীকেও তারা শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে দেখতে চায় না। সংগঠনটির দাবি, নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের জন্য দ্রুত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তারা আবারও দেশজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
