ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৫৬ এএম, ৬ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
দুই দিন ধরে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে শেরপুর জেলার নদ-নদীর পানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর দিয়েছেন শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী।
তবে জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পাহাড়ি ঢলও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে উজানের পানি নেমে এসে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। এর মধ্যে একটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে অন্যান্য নদীর পানিও বাড়লেও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ভোগাই নদীর পানি নাকুগাঁও পয়েন্টে বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সন্ধ্যায় তা কমে ১২৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একইভাবে নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ভোগাই নদীর পানি বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সন্ধ্যা ৬টার দিকে তা কমে ৪১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ ছাড়া পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বেলা ৩টায় বিপৎসীমার ৪০৪ সেন্টিমিটার নিজে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যায় তা ৪০৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার খবর দিয়ে পাউবো।
স্থানীয়রা জানান, চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে ভাঙন এবং বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাউবো কর্মকর্তা সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, উজানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমেছে। মেঘালয় অঞ্চলে বৃষ্টি কমে গেলে এখানকার পানিও দ্রুত নেমে যাবে।
তিনি বলেন, “আমাদের ৭২ ঘণ্টার একটি সতর্কতা ছিল; যা আজ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন করে বন্যার কোনো সতর্কতা নেই। শেরপুরে পানি দ্রুত নামার প্রবণতা রয়েছে, সাধারণত ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যেই পানি কমতে শুরু করে।”
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ফসলের ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
তিনি বলেন, “ছুটির দিন হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আগামীকাল এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত সব কিছু স্বাভাবিক রয়েছে; বন্যার কোনো সম্ভাবনা নেই।”
