ব্যস্ত ও ঘুমহীন জীবনের চিত্র তুলে ধরলেন সিএনএনের নারী সাংবাদিক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫৩ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার
সংগৃহীত ছবি
রাত ২টা ১৫ মিনিটে দিন শুরু করেন সিএনএন-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট ও অ্যাঙ্কর অডি কর্নিশ। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের ব্যস্ত ও ঘুমহীন জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরেছেন। সিএনএন দিস মর্নিং-এর উপস্থাপনা, পডকাস্ট পরিচালনা এবং দুই সন্তানের মাতৃত্ব; সব কিছু একসাথে সামলাতে গিয়ে কীভাবে তিনি প্রতিদিন লড়াই করেন, সে গল্পই প্রকাশ করেছেন তিনি।
৪৬ বছর বয়সী এই সাংবাদিক জানান, অ্যালার্ম বাজতেই রাত ২টা ১৫ মিনিটে তিনি বিছানা ছাড়েন। ক্যাফেইনের ওপর ভরসা না করে তিনি সরাসরি শাওয়ারে চলে যান, যাকে তিনি ঠাট্টা করে নিজের সকালের কফি হিসেবে বর্ণনা করেন। এরপর ভোর ৩টায় ঘরের বাইরে পা রাখার আগে মোবাইলে দিনের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রগুলোতে চোখ বুলিয়ে নেন। কর্মস্থলে পৌঁছে ভোর ৩টা ৩০ মিনিটেই শুরু হয়ে যায় সম্পাদকীয় বৈঠক। একই সময়ে মেকআপ চেয়ারে বসে মেকআপ নেওয়ার পাশাপাশি জুম মিটিংয়েও অংশ নেন তিনি।
ভোর ৫টার দিকে প্রাতঃরাশ সেরে নেন অডি কর্নিশ। এক কাপ চা ও ঘরে তৈরি অমলেট খেতে খেতে বুলেটিনের গবেষণামূলক তথ্যগুলো শেষবারের মতো দেখে নেন। সরাসরি সম্প্রচারে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য সাক্ষাৎকার ও সংবাদ যাচাই-বাছাইয়ের এই নীরব সময়টি তার ভীষণ কাজে দেয়। এরপর সকাল ৬টায় শুরু হয় 'সিএনএন দিস মর্নিং'। অনুষ্ঠানের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, দর্শকরা যেন সকালের নাস্তার টেবিলে বসে সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে প্রধান খবরগুলো বুঝতে পারেন, তিনি সেভাবেই উপস্থাপনা করার চেষ্টা করেন।
সকাল ৭টায় সম্প্রচার শেষ হলেও ব্যস্ততা কমে না। এরপর তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কাজ, পডকাস্টের পরিকল্পনা ও রেকর্ডিং শেষ করতে হয়। অধিকাংশ দিন দুপুর ১২টার মধ্যে তার অফিসের কাজ শেষ হয়।
তবে দুপুর ১২টায় কাজ শেষ হলেও পরের সময়টা তার জন্য খুব একটা বিশ্রামের হয় না। দিনে ঘুমানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলতে তিনি অন্তত ৩০ মিনিট বাইরে কাটানো, ঘরের কেনাকাটা বা ব্যায়াম করার চেষ্টা করেন। তবে বিকেল হতেই সন্তানদের স্কুল থেকে ফেরার সময় হয়ে যায়, আর তখনই তারা তার সর্বোচ্চ প্রাধ্যান্য পান। কর্নিশ বলেন, তিনি সন্তানদের কখনই বলতে চান না যে মা খুব ক্লান্ত। সন্তানরা খেলতে চাইলে তিনি ক্লান্তি ভুলেই তাদের সাথে খেলায় মেতে ওঠেন।
তিনি স্পষ্ট জানান, ব্যস্ততার কারণে যদি তিনি সকালে বাচ্চাদের নাস্তার টেবিলে থাকতে নাও পারেন, তবে রাতের শোবার সময়টা কোনোভাবেই মিস করতে চান না। পরবর্তী জীবনে আফসোস করার চেয়ে তিনি সন্তানদের সাথে এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে চান।
রাত ৮টা থেকে ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বিছানায় যান অডি কর্নিশ। মনকে শান্ত করতে এবং দ্রুত ঘুমাতে তিনি একটি স্লিপ অ্যাপের মাধ্যমে রিল্যাক্সিং সাউন্ড শোনেন। নিজের দীর্ঘ ও পরিশ্রান্ত দিন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, তার মূল চ্যালেঞ্জ হলো পেশাগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সাথে নিজের শরীরের খেয়াল রাখার ভারসাম্য বজায় রাখা, কারণ মানুষের শক্তি ও সামর্থ্য সীমিত।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
