ঢাকা, শুক্রবার ০৭, আগস্ট ২০২৬ ৪:১৮:৪১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ইউটিউবে নতুন চ্যানেল শুরু করার আগে করণীয়

প্রযুক্তি ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩৬ পিএম, ৬ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে (ওয়াইপিপি) সম্প্রতি হওয়া পরিবর্তন লাখ লাখ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গুগলের এই প্রতিষ্ঠান এআই-নির্ভর এবং কম পরিশ্রমে তৈরি ভিডিও নিয়ে নতুন কড়া নীতি চালু করেছে। এর পর থেকেই আবার প্রশ্ন উঠছে, নতুন ইউটিউব চ্যানেল কীভাবে শুরু করবেন? আর মনিটাইজেশনের জন্য কত ঘণ্টা ওয়াচ টাইম ও কতজন সাবস্ক্রাইবার প্রয়োজন?

আপনিও যদি বাড়িতে বসে ইউটিউবের মাধ্যমে আয়ের কথা ভাবেন, তাহলে চ্যানেল শুরু করার আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম ধাপ হিসেবে কনটেন্ট বা বিষয় ঠিক করা প্রয়োজন। ইউটিউব চ্যানেল শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি কোন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করবেন, তা নির্ধারণ করা। সেটা হতে পারে শিক্ষা, রান্না, প্রযুক্তি রিভিউ, ভ্লগিং বা অন্য কোনও বিষয়।


একটি নির্দিষ্ট পথ বেছে নিলে আপনার টার্গেট দর্শক নির্ধারণ করা সহজ হবে এবং কনটেন্টের ধারাবাহিকতাও বজায় থাকে। নতুন চ্যানেলের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন, তারপর ভিডিও আপলোড করুন। একটি গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে খুব সহজেই কয়েক মিনিটের মধ্যে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা যায়।

চ্যানেলের নাম, প্রোফাইল ছবি এবং ব্যানার সেট করার পরই আপনি প্রথম ভিডিও আপলোড করতে পারবেন। শুরুর দিকে ভিডিওর কোয়ালিটির চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত কনটেন্ট প্রকাশ করা। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময় মেনে ধারাবাহিকভাবে ভিডিও আপলোড করলে দর্শক বাড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।


মনিটাইজেশনের জন্য কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে?
 
এবার আসা যাক সেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে। কবে থেকে ইউটিউব থেকে আয় শুরু হবে? ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য মূলত দুটি পথ রয়েছে। প্রথম পথ হলো, আপনার চ্যানেলে অন্তত ১,০০০ জন সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে এবং গত ১২ মাসে মোট ৪,০০০ ঘণ্টা পাবলিক ওয়াচ টাইম পূরণ করতে হবে। দ্বিতীয় পথটি হলো, যারা মূলত ইউটিউব শর্টস তৈরি করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে গত ৯০ দিনের মধ্যে শর্টস ভিডিওতে মোট ১ কোটি ভিউ থাকতে হবে। পাশাপাশি ১,০০০ জন সাবস্ক্রাইবার থাকাও বাধ্যতামূলক।

শুধু ওয়াচ টাইম বা সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা পূরণ করলেই মনিটাইজেশন মিলবে না। চ্যানেলকে অবশ্যই ইউটিউবের কমিউনিটি গাইডলাইন এবং মনিটাইজেশন নীতি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে। সম্প্রতি ইউটিউব এআই-জেনারেটেড, কম পরিশ্রমে তৈরি এবং রিপিট কনটেন্টের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিয়ম চালু করেছে। তাই এখন মৌলিক এবং দর্শকদের জন্য মূল্যবান কনটেন্ট তৈরি করা আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক নতুন ইউটিউবার দ্রুত আয়ের আশায় ভিডিওর মানের সঙ্গে আপস করেন অথবা অন্যের ভিডিও সামান্য পরিবর্তন করে আবার আপলোড করেন। কিন্তু এটি ইউটিউবের নীতিমালার পরিপন্থী এবং এর ফলে চ্যানেলের মনিটাইজেশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা চ্যানেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শুরুর দিকে সফল হতে হলে ধৈর্য ধরে কাজ করা, দর্শকদের মন্তব্যের উত্তর দেওয়া এবং নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে ভিডিও আপলোড করার মতো অভ্যাসগুলো নতুন ইউটিউব চ্যানেল দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।