রাতে গানের আসর মাতালেন, সকালে সড়কে ঝরল প্রাণ
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৩৮ পিএম, ৮ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
সংগৃহীত ছবি
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার হযরত ছাবাল শাহর (রহ.) মাজারে বাবার সঙ্গে এসে গান গেয়েছিলেন শিল্পী পেহেলি ভৈরবী। তার গান দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে শোনেছেন।
দর্শকদের সেই ভালোবাসার রেশ নিয়েই শুক্রবার সকালে বাবার সঙ্গে বাসে করে ফিরছিলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবের গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু বাড়ি ফেরা হয়নি পেহেলি ভৈরবির। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
তার মৃত্যু গানের আসরের অনেক শ্রোতাকে শোকাহত করেছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেহেলী ভৈরবীকে স্মরণ করে তার গানের প্রশংসা করেছেন। পেহেলী ভৈরবীকে যারা চেনেন, তারাও তার এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না।
এদিন সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে যে নয়জন নিহত হয়েছেন তার মধ্যে পেহেলি ভৈরবী একজন।
১৭ বছর বয়সি পেহেলি ভৈরবী ভৈরব উপজেলার চন্ডিবের গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়ার মেয়ে।
গানের অনুষ্ঠানে থাকা বিশ্বনাথের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, “আমি গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। তার বেশ কিছু ভিডিও ধারণ করেছি এবং লাইভও দিয়েছি। আমরা জানি, তার বাড়ি ভৈরবে। এর আগেও তিনি এ মাজারে এসে গান গেয়েছেন। সকালে শুনি তিনি মারা গেছেন। খুব খারাপ লাগছে শিল্পীর জন্য।”
হযরত ছাবাল শাহ (রহ.) মাজারের শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা সোহল আহমদ বলেন, “প্রতিমাসে এক দিন মাজারে দোয়া মাহফিল হয়। দোয়া মাহফিল শেষে দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজনের জন্য গানের আয়োজন থাকে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই মেয়েটা এসেছিল গান গাওয়ার জন্য। মেয়েটার সঙ্গে তার বাবাও ছিলেন।”
তিনি বলেন, “মাজারে গান গাওয়ার শিল্পী আনা-নেওয়ার বিষয়টি দেখেন জাহাঙ্গীর মিয়া। বৃহস্পতিবার গানে আসা সব শিল্পী এক গাড়িতে করে এসেছিলেন। তারা ভোরের দিকে গাড়ি নিয়ে সিলেটে চলে যান। পরে শুনেছি মেয়েটা মারা গেছে সড়ক দুর্ঘটনায়।”
হয়রত ছাবাল শাহ (রহ.) মাজার এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আনিছ আহমদ বলেন, “আমার বাড়ির পাশেই মাজার, গান হলে শব্দ শুনতে পাই। বৃহস্পতিবার রাতে গানের শব্দ শুনেছি। আমি গানে যাইনি। মাজারে প্রায় সময় গান-বাজনা হয়ে থাকে।”
বৃহস্পতিবার নিজের ফেইসবুক স্ট্যাটাসে পেহেলী ভৈরবী লিখেছিলেন, “আসসালামু ওয়ালাইকুম...! সবাই কেমন আছেন আজকে ০৬/০৮/২০২৬ ইং প্রোগ্রাম এ যাবো বিশ্বনাথ, রামপাশা, বৈরাগি বাজার। হযরত ছাবাল শাহ (রহ.) মাজারে। আশপাশে যারা আছেন আজকে দাওয়াত রইলো, ধন্যবাদ।”
তার মৃত্যুর পর শিল্পী মুন তার ফেইসবুকে লিখেছেন, “জীবন সত্যিই কতটা অনিশ্চিত। বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী আর আমাদের মাঝে নেই এই সংবাদটি মেনে নেওয়া সত্যিই অত্যন্ত কষ্টকর। গত রাতে সিলেটের বৈরাগী বাজারে, হযরত ছাবাল শাহ (রহ.) বাবার মাজারের অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করে আজ সকালে বাড়ি ফেরার পথেই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
“আমরা শিল্পীরা প্রতিনিয়ত গান ও অনুষ্ঠানের জন্য দূর-দূরান্তে ছুটে বেড়াই। রাত-দিন, ক্লান্তি কিংবা ঝুঁকি সবকিছু ভুলে মানুষের ভালোবাসার জন্য গান করে যাই। অথচ জীবনের কোন পথচলাটি যে শেষ পথচলা হয়ে যাবে, তা আমরা কেউই জানি না। পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা পেহেলী ভৈরবীর আত্মার শান্তি দান করুন। তার শোকসন্তপ্ত পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি রইল গভীর সমবেদনা।”
শিল্পী এসকে সুমন লিখেছেন, “হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে চমকে গেলাম পেহেলী ভৈরবী দুনিয়াতে আর নাই, না ফেরার দেশে চলে গেলেন। আপনারা সবাই ওর জন্য আশীর্বাদ করবেন।”
