ব্যারিস্টার সালমা সোবহান: মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের সাহসী নাম
উইমেননিউজ ডেস্কঃ
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১০:০৪ এএম, ১২ আগস্ট ২০২৬ বুধবার
সংগৃহীত ছবি
সালমা সোবহান ছিলেন এমন একজন, যাঁর জীবনকে শুধু কয়েকটি পরিচয়ে আটকে রাখা যায় না। তিনি ছিলেন আইনজীবী, শিক্ষক, গবেষক, লেখক, মানবাধিকারকর্মী এবং নারী অধিকারের এক অগ্রণী সংগঠক। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি তাঁর পেশাগত জ্ঞান ও সামর্থ্যকে মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
বাংলাদেশের মানবাধিকার আন্দোলন, আইন শিক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ইতিহাসে ব্যারিস্টার সালমা সোবহানের নাম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি ছিলেন এমন একজন আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকারকর্মী, যিনি আইনকে শুধু আদালতকেন্দ্রিক পেশা হিসেবে দেখেননি; বরং মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। নারী ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর নিরলস ভূমিকা বাংলাদেশের অধিকারভিত্তিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আজ ১১ আগস্ট তাঁর জন্মবার্ষিকী। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের এই অগ্রপথিককে।
ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য নারী
সালমা রাশেদা আক্তার বানু।সবার প্রিয় সালমা সোবহান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৭ সালের ১১ আগস্ট। এমন এক সময়ে তিনি আইন পেশায় প্রবেশ করেন, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের জন্য আইন শিক্ষা ও পেশাগত পরিসর ছিল অত্যন্ত সীমিত।
১৯৫৮ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্টন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরের বছর লিংকনস ইন থেকে বার-এট-ল সম্পন্ন করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি পাকিস্তানের প্রথম নারী ব্যারিস্টার এবং উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী ব্যারিস্টার হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। ১৯৬২ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও অর্জন করেন।
আইন পেশার শুরু করাচিতে। ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত Surridge & Beecheno নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং হাইকোর্টে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
শিক্ষকতা থেকে অধিকারচর্চায়
১৯৬২ সালে ঢাকায় এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন সালমা সোবহান। প্রায় দুই দশকের শিক্ষকতা জীবনে তিনি শুধু আইন পড়াননি; শিক্ষার্থীদের সামনে আইন ও সমাজের পারস্পরিক সম্পর্কও তুলে ধরেছেন।
১৯৭৪ সালে তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-বিলিয়ায় গবেষক হিসেবে যোগ দেন। সেখানে তাঁর প্রধান দায়িত্বগুলোর একটি ছিল সুপ্রিম কোর্ট ল’ রিপোর্ট সম্পাদনা করা। আইন শিক্ষা ও মানবাধিকার আন্দোলনের পাশাপাশি আইন গবেষণা ও বিচারব্যবস্থার নথিবদ্ধকরণেও তাঁর এই ভূমিকা তাঁর কর্মজীবনের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে।
তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি নিঃসন্দেহে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র(আসক) প্রতিষ্ঠা । মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করা এবং আইনের আশ্রয় থেকে বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন থেকেই ‘আসক’- এর যাত্রা হয়েছিল। সালমা সোবহান ছিলেন এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং ১৯৮৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নির্বাহী পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব দেন। তাঁর নেতৃত্বে আসক ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সংগঠনে পরিণত হয়।
