ঢাকা, শনিবার ১৫, আগস্ট ২০২৬ ৩:০৬:৫৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি করে ইতিহাস বদলালেন তামিম

খেলাধুলা ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৩৪ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

সেঞ্চুরি করে উদযাপন করছেন তানজিদ হাসান তামিম। ছবি : বিসিবি

সেঞ্চুরি করে উদযাপন করছেন তানজিদ হাসান তামিম। ছবি : বিসিবি

ইনিংসের ৬৪তম ওভারের শেষ বলটি করলেন নাথান লায়ন। অফ স্টাম্পের বাইরের ফুল লেংথের বলটি বোলারের পাশ দিয়ে ড্রাইভ করে লং অফে পাঠালেন তানজিদ হাসান তামিম। ছুটলেন একটি রানের জন্য। সেটি পূর্ণতা হওয়ার আগেই লাফিয়ে উঠে ব্যাটটা উঁচু করে ধরলেন আর ‘চুমু’ খেলেন হেলমেটে। এরপর লুটিয়ে পড়লেন সেজদায়। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টেই তুলেন নিলেন সেঞ্চুরি। তামিমের ওই খুঁশি কোনোভাবেই প্রকাশ করার মতো না।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটারদের জন্যই অপেক্ষা করে কঠিন পরীক্ষা। সেখানে সেঞ্চুরি যেনো একটি অবিশ্বাস্য ব্যাপার। তাই তো ক্রিকইনফোর ধারভাষ্যকার ইংলিশ তারকা জো রুটকে সামনে এনে বললেন, ‘জো রুটকে অসিদের মাটিতে কীভাবে শতক হাঁকাতে হয়, তামিম তা-ই দেখিয়ে দিল।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের সময় কাটছে অনেকটা স্বপ্নের মতোই। সেই স্বপ্নের একটি অংশ তামিম। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নেমেছিলেন প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজলউডদের মতো বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের সামনে। কিন্তু উইকেটে কী দারুণ নির্ভার, যেনো কতদিনের চেনা উইকেটে ব্যাটিং করছেন তামিম।

কামিন্স-হ্যাজলউডদের শাসন করে পূরণ করে নিয়েছেন নিজের স্বপ্নও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই পেলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের দেখা।

সেঞ্চুরি করে অবশ্য আর বেশি দূর এগুতে পারেননি তামিম। ইনিংসের ৬৬তম ওভারে লায়নের বলে মিচেল স্টার্ককে দিয়ে ফিরেছেন তিনি। এর আগেই অবশ্য নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১৯৭ বল খেলে করেছেন ১০১ রান।  

গতকাল ম্যাচের প্রথম দিন, শেষ বিকেলে যখন বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামে, পরিবেশটা ছিল বেশ কঠিন। একটু আগেই অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের নাকানি-চুবানি খাইয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। দেখার অপেক্ষা ছিল, অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামনে বাংলাদেশ কি করে, সেটি দেখার। ব্যাটিংয়ে নেমে তামিম কোনো তাড়া দেখাননি। অসি বোলারদের পেস আর বাউন্স সামলে ঠাণ্ডা মাথায় দিন শেষ করেন।

আসল পরীক্ষা ছিল আজ, ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে। আবারও সামলানোর দায়িত্ব ছিল স্টার্ক-হ্যাজলউডদের নতুন। এদিনও সেই পরীক্ষায় পাশ করেছেন তামিম। নিজের উইকেটটা সহজে ছেড়ে দেননি। প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত উইকেটে থিতু হয়ে এক প্রান্ত আগলে রাখেন। অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের সামনে দায়িত্ব নিয়ে খেলেন তিনি। তার পুরস্কারই এই সেঞ্চুরি।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের যে কয়জন ব্যাটার খেলেছেন, সফরটা কারও জন্যই খুব একটা সুখকর ছিল না। রান তোলা তো দূরের কথা, উইকেটে টেকাটাই ছিল প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে তামিম সেই ইতিহাস বদলে দিলেন।