ঢাকা, শনিবার ১৫, আগস্ট ২০২৬ ১৮:২৬:৩০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪৬ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি)। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে শত শত মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে।

প্রাথমিক ভূমিকম্পের পর আরও দুটি আফটারশক অনুভূত হয়। এর মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১।

এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের একটি হাসপাতালের ৩১ বছর বয়সী কর্মী লুকাস লোতার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘হঠাৎ করে সবকিছু কাঁপতে শুরু করায় আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’ তিনি জানান, রোগীরাও হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি ছিল তীব্র এবং তিনি কয়েকটি দেয়ালে ফাটল দেখতে পেয়েছেন।

ভূমিকম্পের পর বিএমকেজি উপকূলীয় বাসিন্দাদের সমুদ্রসৈকত ও নদীর তীর থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কারণে পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি ও পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশে সুনামি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সুনামির সতর্কতায় শূন্য দশমিক ৫ মিটার থেকে ৩ মিটার উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কার কথা জানানো হয়।

এদিকে ফ্লোরেস দ্বীপের মাউমেরে শহরের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যেতে শুরু করেন। এএফপির এক প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ওই এলাকায় সমুদ্রের পানি কিছুটা সরে যেতে দেখা গেছে। সম্ভাব্য সুনামির আগে এ ধরনের ঘটনা দেখা যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার টেলিভিশনে প্রচারিত বিভিন্ন ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এবং নিকটবর্তী নাগেওকেও রিজেন্সির শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কয়েকটি এলাকায় ১৯ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ শনাক্ত করা হয়েছে।

১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার আগ্নেয়গিরি ও ভূতাত্ত্বিক চ্যুতির বিস্তৃত বলয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ দেশটির অবস্থান হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম দেখা যায়।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সমুদ্রের তলদেশে সংঘটিত এই ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, দ্বীপ বা অন্যান্য ভূখণ্ডে কোনো সুনামির হুমকি নেই। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান