আদিবাসী তরুণী সীমার স্বাবলম্বী হওয়ার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৪৯ এএম, ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার
সংগৃহীত ছবি
সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে একসময় অন্যের জমিতে দিনমজুরির কাজ করতেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ২৫ বছর বয়সী আদিবাসী তরুণী সীমা মিনজি। রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনির পর দিন শেষে যে মজুরি মিলত, তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের চাকা সচল রাখা ছিল কঠিন। কোনো দিন কাজ না মিললে চুলোয় হাঁড়ি ওঠাই দায় হয়ে পড়ত।
জীবনের এই ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে আলোর দিশা নিয়ে আসে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ। ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘রেইজ’ প্রকল্পের একটি কমিউনিটি আউটরিচ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব জানতে পারেন। পরে সেখান থেকে ‘ফ্যাশন গার্মেন্টস ড্রেস মেকিং অ্যান্ড টেইলারিং’ ট্রেইডে ভর্তি হন সীমা।
প্রকল্পের ‘গুরু-শিষ্য’ পদ্ধতিতে ওস্তাদ মোছা: হাসনা বানু ময়নার অধীনে দীর্ঘ ৬ মাস ঘরে ও দোকানে বসে বাস্তব কর্মপরিবেশে সেলাইয়ের কাজ শিখেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে আর আগের কষ্টের জীবনে ফিরে যেতে হয়নি সীমাকে। ইএসডিও-এর ঋণ সহায়তায় নিজের একটি সেলাই মেশিন কিনে ঘরের এক কোণেই গড়ে তোলেন নিজের কাজের জায়গা।
বর্তমানে নিজ দক্ষতায় পোশাক তৈরি ও সেলাই কাজ করে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন সীমা মিনজি। তাঁর স্বামী বিদ্যুৎ মেকানিক উজ্জ্বল ওরাও জানান, একা উপার্জনে যেখানে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে সীমার এই আয় এখন সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মাসহ পুরো পরিবারের আর্থিক সমৃদ্ধি এনে দিয়েছে। সীমার এই সফলতা কেবল তাঁর পরিবারেই পরিবর্তন আনেনি, বরং আশেপাশের অন্য আদিবাসী নারীদের মাঝেও ঘরে বসে স্বাবলম্বী হওয়ার অনুপ্রেরণা জাগাচ্ছে।
এ বিষয়ে ইএসডিও-র রেইজ প্রকল্পের ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সামসুত তাবরিজ জানান, গ্রামীণ ও আদিবাসী নারীদের এমন কারিগরি দক্ষতায় রূপান্তর করে আর্থিক স্বাধীনতা এনে দেওয়াই তাদের প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।
