ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮, আগস্ট ২০২৬ ১৮:০৩:৩৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নারী চালক-কন্ডাক্টর নিয়ে চালু হলো বিআরটিসির ‘পিংক বাস’

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৫৬ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

নারী চালক ও কন্ডাক্টর নিয়ে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া জেলায় চালু হলো বিআরটিসির ‘পিংক বাস’। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তেজগাঁও বিআরটিসি ডিপোতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এই সেবার উদ্বোধন করেন।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ বাস পরিচালনা করতে চাই। উদ্দেশ্য হচ্ছে, নারীরা বাসে ওঠার আগে বা ওয়েটিংয়ের সময় যাত্রীবান্ধব পরিবেশ পাবে; বাসে ওঠার পর নারীবান্ধব বাস সার্ভিস পাবে; বাস থেকে নামার সময়ও যাত্রীবান্ধব পরিবেশ পাবে।

তিনি বলেন, আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক যেহেতু নারী, রাষ্ট্র বিনির্মাণে নারীর অবদান স্মরণীয় ও সমান, আবার আমাদের ভোটারদেরও অর্ধেকের বেশি নারী, পরিবারে-সংসারের ড্রাইভিং সিটে আছে নারী, অতএব তাদের যোগ্যতা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কাজে লাগানোর জন্য তাদের একটা নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা দরকার। সেই বিবেচনায় এই সরকার ও বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ছিল যে, আমরা নারীবান্ধব ও নারী কর্তৃক পরিচালিত একটা পরিবহন ব্যবস্থা করব। তার অংশ হিসেবে আমরা ১৪টি বাস চালু করছে।

রবিউল জানান, ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি বাস—একটি একতলা বাস, বাকি সবগুলো দ্বিতল বাস; চট্টগ্রামে একটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস ও বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি দ্বিতল বাস চলবে। অর্থাৎ ১৩টি রুটে ১৪টি বাস চলবে। আমাদের পরিকল্পনা, আগামী দিনে এই রুট আরও সম্প্রসারিত হবে, বাসের সংখ্যা বাড়বে এবং পরিবেশ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ হবে,’ যোগ করেন তিনি।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, অনেক উদ্যোগ এর আগে হয়েছে, মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়েছে। এমনো হয়েছে উদ্বোধন হয়েছে, ছয় মাস পরে গিয়ে আর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায় নাই। সেটা এই সরকার হতে দেবে না। এই উদ্যোগ ধরে রাখা, টেকসই রাখা, সমৃদ্ধ ও প্রসারিত করা চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য এই মন্ত্রণালয় প্রস্তুত আছে। আমি ও আমার টিম প্রস্তুত আছি।

বিআরটিসির সেবা ঢেলে সাজানো দরকার এবং সেই কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিআরটিসি ৫ শতাধিক ট্রাক ও ১ হাজার ২০০ এর বেশি বাস পরিচালিত করে। এই মুহূর্তে বিআরটিসি লসে নেই, ব্রেক ইভেন্টে আছে। একটা জায়গায় সমস্যা—মানসম্মত সেবা। জরাজীর্ণ একটা ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান আছে। আমরা অনেক রুট পেয়েছি, যে রুটের অস্তিত্ব নাই কিন্তু পারমিট আছে। আবার অনেক রুট আছে, পারমিট নাই, বাস চলছে। কারণ এগুলো অনেক আগে করা হয়েছে। আমরা এখন ঢাকা শহরে যাত্রীবান্ধব ও যাত্রীর চাপ বিবেচনা করে যানবাহনের রুট পারমিট এবং ওই রুটের রেশনাইলজ করে নতুন করে চিহ্নিত করতে চাই।

সরকার সরাসরি ২০০ ইভি (বৈদ্যুতিক যানবাহন) বাস কিনতে যাচ্ছে জানিয়ে রবিউল বলেন, কারণ প্রকল্প আকারে যদি যাই, প্রকল্প আকারে উপস্থাপন, পাস করা, টেন্ডার করা, বাস পেতে আমাদের কমপক্ষে দেড় থেকে দুই বছর লেগে যায়। গ্রিন ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস যদি আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, ফসিল ফুয়েলের আধিক্য থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে চাই, ঢাকার মাল্টিমোডাম যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে ইভি বাস এখন খুবই জরুরি এবং এটা আমাদের অঙ্গীকারের অংশ।

এসব বাসের মধ্যে বিভিন্ন রুটে নারীদের জন্য ১০০ বাস চলবে এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার বাইরেও অন্যান্য বিভাগে এই সেবা সম্প্রসারিত করা হবে।

রবিউল বলেন, নারীরা পুরুষের চেয়ে কোনো অংশে কম পারে না এবং কম পারছে না। কিছু দিন আগে আপনারা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি অঘোষিত যুদ্ধ দেখেছিলেন। সেখানে পাকিস্তানের নারী পাইলট একবার উড়াল দিয়ে তিন থেকে চারটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছে। অর্থাৎ নারীরা ফাইটার প্লেন চালায়। অন্যের সীমানায় অন্যের ফাইটার বিমানকে ভূপাতিত করে তারা গর্বের সঙ্গে আবার নিজের দেশে প্রত্যাবর্তন করছে। আমার যতটুকু ধারণা, সেই যুদ্ধে ভারত ভালো করতে পারছিল না বিধায় তার কিছুটা ব্যর্থতার দায় যিনি নিয়েছিলেন, তিনিও ছিলেন নারী পাইলট। আমাদের নারীরা এতটা সাহসী। মুক্তিযুদ্ধে তারা জীবন দিয়েছে, খেতাব পেয়েছে। তখন তো আরও বেশি ব্যাকওয়ার্ড ছিলাম আমরা। যদি সত্তরের কথা বলেন, তখন নারীদের বাইরে আসা, নিজের মত করে পেশা পছন্দ করা, সম্মুখ সমরে গিয়ে অস্ত্র ধরা কঠিন ছিল—করেছে তো আমাদের নারীরা!

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, আমরা এখানে আজকে যারা সফল, স্টেজে দাঁড়িয়ে, তারাও কোনো না কোনো নারীর আদরের এবং কোনো না কোনো নারীর পৃষ্ঠপোষকতায়। অতএব আমরা সেই নারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় একটি নিরাপদ স্বস্তির যাতায়াত নিশ্চিত করতে চাই, সহাবস্থান নিশ্চিত করতে চাই।