গিনিতে ভারী বৃষ্টিতে আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত অন্তত ৩০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১১:৩৮ এএম, ২৪ আগস্ট ২০২৬ সোমবার
ছবি: সংগ্রহিত।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির রাজধানী কোনাক্রিতে ভারী বৃষ্টির পর বিশাল আবর্জনার স্তূপ ধসে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা গুরুতর। রোববার (২৩ আগস্ট) দেশটির সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
ভোররাত ২টার দিকে কোনাক্রির গবেসিয়া এলাকার দার-এস-সালাম বর্জ্যভাগাড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাতভর ভারী বৃষ্টির পর আবর্জনার বিশাল স্তূপের একটি অংশ ধসে আশপাশের তাঁবু, অস্থায়ী ঘরবাড়ি ও বসতিতে গিয়ে পড়ে। এতে বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধারকাজ শুরু করে। খননযন্ত্র ব্যবহার করে ধসে পড়া আবর্জনা সরিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২২ জনের মধ্যে ছয়জন গুরুতর এবং ১৬ জন সামান্য আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, উদ্ধার ও তল্লাশি কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
ঘটনার কয়েক দিন আগেই বর্ষাকালে বর্জ্যভাগাড়টির একটি অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কায় সরকার আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। একই সঙ্গে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল। তবে দুর্ঘটনার সময় ওই এলাকায় অনেক মানুষ অবস্থান করছিলেন।
দার-এস-সালাম কোনাক্রির অন্যতম বড় উন্মুক্ত বর্জ্য ফেলার স্থান। বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টির কারণে সেখানে আবর্জনার স্তূপ নরম হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
গিনির প্রধানমন্ত্রী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম তদারক করেছেন। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
দার-এস-সালামের এই দুর্ঘটনা আফ্রিকার দ্রুতবর্ধনশীল নগর এলাকাগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রিত বসতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে আবর্জনার স্তূপ ও অস্থায়ী বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা
