ঢাকা, শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩৮:১২ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

প্রেমভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ বন্ধে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৩১ পিএম, ২৭ আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার কথা তুলে ধরে কেবল প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্সনির্ভর নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানানো হয়েছে। এ দাবিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।

যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, পারিবারিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল মেধার বিকাশের লক্ষ্যে কেবল প্রেম ও রোমান্সনির্ভর চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানিয়ে এ আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে নোটিশটি পাঠান।

নোটিশটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি: আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বর্তমান চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সাংস্কৃতিক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে নোটিশদাতার দাবি।

এ ধরনের কনটেন্টের ব্যাপক সম্প্রচারে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে পড়ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন নাটক ও সিনেমায় পরকীয়া এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিক বা আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে। নোটিশদাতার মতে, এ ধরনের উপস্থাপন দেশের প্রচলিত নৈতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গেও সম্পর্কের দাবি: নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, গণমাধ্যমে অনৈতিক সম্পর্কের অবাধ উপস্থাপন সামাজিক নৈরাজ্য তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে পরকীয়া ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধির সঙ্গেও এসব কনটেন্টের সম্পর্ক রয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো গবেষণা বা পরিসংখ্যান নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি।

সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরা হয়েছে: আইনি নোটিশে সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইন মেনে চলা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

এতে আরও বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের মাধ্যমে যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২৩ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে জাতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে রাষ্ট্রের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞান, শিক্ষা ও ইতিহাসভিত্তিক কনটেন্টের দাবি: নোটিশদাতা মনে করেন, দেশের সংস্কৃতি ও তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে শুধু প্রেমকেন্দ্রিক কনটেন্টের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন।

এর পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণ এবং সম্প্রচারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশপ্রেমিক ও নৈতিকভাবে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তুলতে এসব বিষয়ভিত্তিক সৃজনশীল কাজকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।

১০ দিনের সময়: আইনি নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে কেবল প্রেমভিত্তিক সিনেমা ও নাটকের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ ও সম্প্রচারে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে নোটিশদাতাকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে আইনি নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।

তবে আইনি নোটিশটি এখনো কেবল একটি দাবি ও আইনি পদক্ষেপের পূর্ববর্তী নোটিশ। এতে উত্থাপিত অভিযোগ বা দাবিগুলো আদালতের রায় কিংবা সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য নয়।