ঢাকা, শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬ ১৬:৫২:২৫ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

চীনে রবীন্দ্রনাথের দূত অধ্যাপক ডং ইউ ছেনের চোখে বাংলাসাহিত্য

আইরীন নিয়াজী মান্না

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:০৬ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

অধ্যাপক ডং ইউ ছেন

অধ্যাপক ডং ইউ ছেন

চীনের বেইজিং ফরেন স্টাডিজ ইউনিভার্সিটি-এর সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক ডং ইউ ছেন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন বাংলা সাহিত্য। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর রচনা নিয়ে। তার নেতৃত্বে ১৭ জন অনুবাদকের একটি দল সরাসরি বাংলা থেকে রবীন্দ্রনাথের সম্পূর্ণ রচনাবলী চীনা ভাষায় অনুবাদ করেছে— যা সাহিত্য অনুবাদের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে থাকা এই বিশিষ্ট গবেষকের সঙ্গে কথা বলেছেন, উইমেননিউজ২৪.কম-এর সম্পাদক আইরীন নিয়াজী মান্না। তার সাক্ষাৎকারটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।


প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের প্রতি আপনার আগ্রহ কীভাবে তৈরি হলো?
ডং ইউ ছেন:
আমার ছাত্রজীবনেই বিশ্বসাহিত্য পড়ার সময় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কবিতার সঙ্গে পরিচয় হয়। তার ভাষার সৌন্দর্য, মানবিক বোধ এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর টান আমাকে আকৃষ্ট করে। পরে আমি বুঝতে পারি, তাকে অনুবাদের মাধ্যমে আরও বৃহত্তর পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

প্রশ্ন: বাংলা ভাষা থেকে সরাসরি রবীন্দ্রনাথের সম্পূর্ণ রচনাবলী চীনা ভাষায় অনুবাদের এই উদ্যোগের পেছনের প্রেরণা কী ছিল?
ডং ইউ ছেন:
আমরা দেখেছি, আগে অনেক অনুবাদ ইংরেজি মাধ্যম হয়ে হয়েছে, ফলে মূল ভাব অনেক সময় হারিয়ে যায়। তাই সরাসরি বাংলা থেকে অনুবাদের সিদ্ধান্ত নেই, যাতে লেখকের আসল স্বর ও আবেগ ঠিকভাবে তুলে ধরা যায়।

প্রশ্ন: অনুবাদের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের কোন দিকটি সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং— কবিতা, গান, না দর্শনধর্মী গদ্য?
ডং ইউ ছেন:
আমার মনে হয়, তার কবিতা ও গানই সবচেয়ে কঠিন। কারণ সেখানে শুধু শব্দ নয়, ছন্দ, সুর ও অনুভূতির সূক্ষ্মতা থাকে। এগুলো অন্য ভাষায় পুরোপুরি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রশ্ন: চীনা পাঠকরা রবীন্দ্রনাথকে কীভাবে গ্রহণ করছেন? তাদের উপলব্ধি কি বাঙালি পাঠকদের থেকে আলাদা?
ডং ইউ ছেন:
চীনা পাঠকরা তাকে একজন মানবতাবাদী কবি হিসেবে খুবই আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন। তবে সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন হওয়ায় কিছু অনুভূতি ও প্রতীকের ব্যাখ্যায় পার্থক্য থাকে।

প্রশ্ন: বাংলা ও চীনা সংস্কৃতির মধ্যে আপনি কী ধরনের মিল খুঁজে পান?
ডং ইউ ছেন:
দুটি সংস্কৃতিতেই পরিবার, প্রকৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো খুব গুরুত্ব পায়, যা আমাদের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

প্রশ্ন: ১৭ জন অনুবাদকের একটি দল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
ডং ইউ ছেন:
এটি ছিল দীর্ঘ ও ধৈর্যের কাজ। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভাষার সামঞ্জস্য বজায় রাখা— যাতে সব অনুবাদ একই মান ও শৈলী ধরে রাখতে পারে।

প্রশ্ন: আজকের বিশ্বে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা— বিশেষ করে মানবতাবাদ— কতটা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন?
ডং ইউ ছেন:
বর্তমান বিশ্বে বিভাজন ও সংঘাতের সময়েও তার মানবতাবাদী চিন্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও বৈশ্বিক বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দেন।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ সফরে এসে আপনার কী নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে? বাংলা সাহিত্যকে কাছ থেকে দেখে কী মনে হয়েছে?
ডং ইউ ছেন:
বাংলাদেশে এসে আমি ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা দেখেছি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সাহিত্যচর্চার আগ্রহ আমাকে আশাবাদী করেছে।

প্রশ্ন: রবীন্দ্রনাথ ছাড়া অন্য বাংলা সাহিত্য চীনে পরিচিত করার পরিকল্পনা আছে কি?
ডং ইউ ছেন:
অবশ্যই। আমরা কাজ করছি যাতে আরও বাংলা লেখকের সাহিত্য চীনা ভাষায় অনূদিত হয়। এতে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের জন্য— বিশেষ করে যারা অনুবাদ বা সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী—  তাদের জন্য আপনার বার্তা কী?
ডং ইউ ছেন:
আমি বলবো, ভাষা শেখার পাশাপাশি সংস্কৃতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। অনুবাদ শুধু শব্দের নয়, এটি হৃদয়ের সংযোগ তৈরি করার একটি মাধ্যম।