ইতালিতে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসে ৪৩২ আক্রান্ত, মৃত্যু ১৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:১৪ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
ইতালিতে মশাবাহিত ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৪৩২ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে শতাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জোরদার করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত ইতালির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের (আইএসএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শনাক্ত ৪৩২ রোগীর মধ্যে ২২৩ জনের সংক্রমণ নিউরো-ইনভেসিভ বা স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হওয়ার ধরন। এ ছাড়া ১৪৪ জনের জ্বরের উপসর্গ রয়েছে এবং রক্তদাতাদের মধ্যে উপসর্গহীন ৬৩ জনের শরীরেও ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
আইএসএসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইতালির ১৭টি অঞ্চলের ৬৬টি প্রদেশে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে লোম্বার্দিয়ায় ১১৪ জন, এরপর ভেনেতোতে ৭৪, লাৎসিওতে ৬৩, পিয়েমন্তেতে ৬০ এবং এমিলিয়া-রোমানিয়ায় ৪২ জন। ফলে শুধু নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে নয়, দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।
স্নায়ুতন্ত্রে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার বর্তমানে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে আক্রান্তের মোট সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও মৃত্যুর সংখ্যা কম। ২০২৫ সালের একই সময়ে ৪৩০ জন আক্রান্তের বিপরীতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
. .....
এদিকে, ইতালির ভেনেতো ও ফ্রিউলি-ভেনেজিয়া জুলিয়ায় মশার মধ্যেও ভাইরাসটির বিস্তার বাড়ার প্রমাণ মিলেছে। স্থানীয় মশা পর্যবেক্ষণে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার মশা পরীক্ষা করে ৭৩টি পজিটিভ মশার দল শনাক্ত হয়েছে। ভেনেতোতে ভাইরাস শনাক্তের হার ৪ শতাংশ এবং ফ্রিউলিতে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।
ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের প্রধান বাহক কিউলেক্স প্রজাতির মশা। বন্য পাখি সাধারণত ভাইরাসটির প্রাকৃতিক আধার হিসেবে কাজ করে এবং আক্রান্ত মশার কামড়ে মানুষ ও ঘোড়ায় সংক্রমণ ছড়াতে পারে। মানুষের মধ্যে সরাসরি সংস্পর্শে সাধারণত ভাইরাসটি ছড়ায় না। তবে রক্ত সঞ্চালন, অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং গর্ভাবস্থায় মা থেকে সন্তানের মধ্যে সংক্রমণের বিরল ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
ইতালির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নজরদারি অনুযায়ী, গ্রীষ্ম ও শরতের সময়ে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। এ কারণে মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ এবং রক্ত ও অঙ্গদানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটিতে সমন্বিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। আইএসএস জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সাপ্তাহিকভাবে আক্রান্তের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।
