ঢাকা, শুক্রবার ২৮, আগস্ট ২০২৬ ১৭:০২:০৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবন

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৮ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ শুক্রবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর খুলছে সুন্দরবনের দুয়ার। এদিন থেকে বন বিভাগের পাস নিয়ে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার নিবন্ধিত জেলে ও বাওয়ালিরা মাছ ও কাঁকড়া আহরণে বনে প্রবেশ করতে পারবেন। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত হবে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মশিউর রহমান জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে নজরদারি চালিয়েছে। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হকও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে।

জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ, সম্পদ আহরণ ও পর্যটন বন্ধ রাখা হয়। জুন থেকে আগস্টকে অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করে প্রতিবছর এ সময় বন বন্ধ রাখা হয়। এ সময়ে নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর প্রজনন ঘটে এবং উদ্ভিদের বীজ থেকে নতুন চারা গজায়।

তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অবৈধ প্রবেশ পুরোপুরি ঠেকানো যায়নি। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণের অভিযোগে ৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ৪৪ জনকে আটক, ৩৮টি নৌকা জব্দ এবং ২৭৯ কেজি কাঁকড়া উদ্ধার করা হয়। ঝিনুক পাচারের ঘটনায় একটি পিকআপসহ ৭৭ বস্তা ঝিনুকও জব্দ করা হয়েছে।

. .....
বন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য খাল ও প্রবেশপথ এবং জনবল সংকটের কারণে সব এলাকায় একসঙ্গে নজরদারি চালানো কঠিন। এরপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে বিভিন্ন স্টেশন ও টহল ফাঁড়ি থেকে দিন-রাত অভিযান ও টহল চালানো হয়েছে। খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জে জুন-জুলাইয়ে ১০৮টি অভিযানে ৪৬ জনকে আটক এবং বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া, চিংড়ি, সাদা মাছ, অবৈধ জাল ও হরিণ শিকারের ফাঁদ জব্দের তথ্য জানিয়েছে বন বিভাগ।

দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকায় সুন্দরবননির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষজন আর্থিক সংকটে পড়েন। বন খুলে দেওয়ার খবরে তাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলো চালু হওয়ায় নৌযান, ট্রলার ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানুষের কর্মচাঞ্চল্যও ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সুন্দরবনের জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া রয়েছে। প্রজনন মৌসুমে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার অন্যতম লক্ষ্য এসব মৎস্যসম্পদের প্রজনন নির্বিঘ্ন করা। তাই ১ সেপ্টেম্বর বন খুললেও অবৈধভাবে মাছ ধরা, বন্যপ্রাণী শিকার ও বনজ সম্পদ আহরণ ঠেকাতে নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।