নারীমুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ সাংবাদিক গ্লোরিয়া স্টেইনেমের মৃত্যু
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:০৮ পিএম, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
যুক্তরাষ্ট্রের নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, সাংবাদিক ও নারীবাদী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম
যুক্তরাষ্ট্রের নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, সাংবাদিক ও নারীবাদী অধিকারকর্মী গ্লোরিয়া স্টেইনেম মারা গেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটিতে নিজ বাড়িতে ৯২ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
স্টেইনেমের ফাউন্ডেশন এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তার মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেছে, শেষ সময়ে প্রিয়জনেরা তার পাশে ছিলেন।
সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও সম্পাদনার দীর্ঘ কর্মজীবনে গ্লোরিয়া স্টেইনেম নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি যৌন বৈষম্য, নারীর প্রতি সহিংসতা, প্রজনন অধিকার ও সমঅধিকারসহ নানা বিষয়ে সোচ্চার ছিলেন।
নিউইয়র্কে সাংবাদিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন স্টেইনেম। পরে তিনি নারীদের অধিকার ও জীবনসংক্রান্ত বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত ‘মিস’ ম্যাগাজিনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হন। সে সময় নারীদের নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ সাময়িকীতে গৃহস্থালি, সৌন্দর্য ও পারিবারিক বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হলেও ‘মিস’ ম্যাগাজিন নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু করে।
গর্ভপাতের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন
১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন স্টেইনেম। নারীর প্রজনন অধিকার ও নিরাপদ গর্ভপাতের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন।
মাত্র ২২ বছর বয়সে লন্ডনে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর অভিজ্ঞতাও পরবর্তী জীবনে নারীর প্রজনন অধিকার নিয়ে তার অবস্থানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ১৯৭৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ‘রো বনাম ওয়েড’ মামলার ঐতিহাসিক রায়কে তিনি স্বাগত জানান। ওই রায়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছিল।
তবে প্রায় পাঁচ দশক পর, ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট সেই ঐতিহাসিক রায় বাতিল করে। জীবনের শেষদিকে নিজের আন্দোলনের একটি বড় অর্জন বাতিল হওয়ার ঘটনাটিও প্রত্যক্ষ করেন স্টেইনেম।
শুধু নারীর অধিকারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না
নারীর সমঅধিকার ও সমান মজুরির দাবির পাশাপাশি সমলিঙ্গের মানুষের বিয়ের বৈধতা, মৃত্যুদণ্ড বিলোপ এবং নারী যৌনাঙ্গ বিকৃতকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন গ্লোরিয়া স্টেইনেম।
তিনি শুধু একজন সাংবাদিক বা লেখক ছিলেন না; যুক্তরাষ্ট্রের নারী অধিকার আন্দোলনের একজন সংগঠক ও জনমত নির্মাতা হিসেবেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। নারীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে দেখানোর ক্ষেত্রে তার লেখালেখি বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল।
পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে নারীমুক্তি আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে গ্লোরিয়া স্টেইনেম যুক্তরাষ্ট্রে নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান। তার সাংবাদিকতা ও আন্দোলন পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য নারী অধিকারকর্মীকে প্রভাবিত করেছে।
নারীর সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার যে আন্দোলনে তিনি জীবনের বড় একটি অংশ উৎসর্গ করেছিলেন, সেই আন্দোলনের ইতিহাসে গ্লোরিয়া স্টেইনেমের নাম তাই দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
