আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৮১:রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০১:৫৯ পিএম, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার
সংগৃহীত ছবি
গেল আগস্ট মাসে দেশে ৫১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮১ জন নিহত ও ৬৬৪ জন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬১ জন নারী ও ৫৮ জন শিশু। মোট নিহত ব্যক্তিদের ৩৬.৫৯ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৭৬ জন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের সইকৃত সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টে ১৮৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া ১০২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট প্রাণহানির ২১ দশমিক ২০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে সবচেয়ে বেশি ২১৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ১৬৩টি, গ্রামীণ সড়কে ৬২টি এবং শহরের সড়কে ৭১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। ১২৬টি ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১০৬টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা এবং ৭৮টি অন্য যানবাহনের পেছনে আঘাতের ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৮টি দুর্ঘটনা।
বিভাগগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৭২টি দুর্ঘটনায় ১৪৪ জন নিহত হয়েছেন। বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ১৫টি দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হন। একক জেলা হিসেবে বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী ঢাকায় ৪৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৩ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৪ জন।
আগস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে ১৫ দশমিক ৫১ জন নিহত হয়েছেন। জুলাইয়ে দৈনিক গড় প্রাণহানি ছিল ১৩ দশমিক ৪১ জন। সে হিসাবে আগস্টে প্রাণহানি বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ।
এ ছাড়া আগস্টে সাতটি নৌ-দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে ৩৪টি রেল ট্রাক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, চালকদের অদক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতা, অনির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংস্থাটি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএর ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কার, মোটরযানে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়ক থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে।
