নাসরার দুরন্ত ঘূর্ণিতে সেমিতে পাকিস্তান
খেলাধুলা ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৬:৪৩ পিএম, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার
নাশরা সান্ধু।
নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রথম বোলার হিসেবে এক ইনিংসে ছয় উইকেট নিলেন নাশরা সান্ধু।
নাশরা সান্ধুর ইতিহাসগড়া বোলিংয়ে নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে পাকিস্তান। সোমবার দুবাইয়ে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হংকংকে ৭২ রানে হারিয়েছে তারা। পাকিস্তানের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান নাশরার—মাত্র ৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৬ উইকেট। নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের কোনো বোলারের এটিই প্রথম ছয় উইকেট।
টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৪৩ রান করে পাকিস্তান। শাওয়াল জুলফিকার ছিলেন দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৩৫ বলে ৪৭ রানের লড়াকু ইনিংসে ছয়টি চার মেরেছেন তিনি। আয়েশা জাফর ১৯ বলে ২৬ এবং অধিনায়ক ফাতিমা সানা ২৪ রান করেন। জুলফিকারের বিদায়ের পর শেষ ৮.৪ ওভারে মাত্র ৫১ রান যোগ করতে পারে পাকিস্তান।
হংকংয়ের হয়ে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন জয়লিন কৌর। ক্যারিয়ারসেরা বোলিং করে ১৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ধীরগতির ও বল গ্রিপ করা উইকেটে পাকিস্তানি ব্যাটারদের চাপে রাখেন তিনি। তবে জুলফিকারের ৪৭ রানের ইনিংসের কারণে লড়াই করার মতো সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয় পাকিস্তান।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে হংকং। ফাতিমা সানা প্রথম ওভারেই মারিকো হিলকে বোল্ড করেন। পরের ওভারে সাদিয়া ইকবাল নাতাশা মাইলসকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান। এরপর কেরি চ্যান ৪৭ বলে ৩০ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন।
এরপর শুরু নাশরা সান্ধুর ইতিহাস। পাওয়ারপ্লের পর বোলিংয়ে এসে বাঁহাতি স্পিনে হংকংয়ের ব্যাটিংকে ধসিয়ে দেন তিনি। প্রথমে ইয়াসমিন দাসওয়ানিকে ঘূর্ণিতে পরাস্ত করেন, এরপর মারিনা ল্যাম্পলফকে বোল্ড এবং মারিয়াম বিবিকে ক্যাচে ফেরান। নিজের শেষ ওভারে টানা দুই বলে দুটি উইকেটসহ মোট তিনটি উইকেট নিয়ে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন নাশরা। ৪ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে তাঁর ৬ উইকেটের বোলিংই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ৭২ রানের জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ে গ্রুপ ‘এ’-তে রানার্সআপ হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। শুক্রবার শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। অন্যদিকে হংকংয়ের বিপক্ষে জয়টি পাকিস্তানের জন্য শুধু সেমিফাইনালের টিকিটই নিশ্চিত করেনি, নাশরার রেকর্ড বোলিংয়ের কারণে ম্যাচটি নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসেও আলাদা জায়গা করে নিল।
