ঢাকার বাতাসে কিছুটা স্বস্তি, দূষিত শহরের তালিকায় ২৩তম
অনলাইন ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:০০ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ফাইল ছবি।
আজ শুক্রবার সকালে বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মানে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তবে নগরীর বায়ু এখনো পুরোপুরি স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছেনি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ৭৯, যা ‘মাঝারি বা সহনীয়’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১৮২ স্কোর নিয়ে শীর্ষে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং।
আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন দূষিত শহরের তালিকায় কুচিংয়ের পর ১৭৩ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা। ১৬৭ স্কোর নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা তৃতীয়, ১৬৬ স্কোর নিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লি চতুর্থ, ১৬০ স্কোর নিয়ে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর কিনশাসা পঞ্চম এবং ১৫৭ স্কোর নিয়ে পাকিস্তানের লাহোর ষষ্ঠ অবস্থানে ছিল। ৭৯ স্কোর নিয়ে ঢাকা ছিল তালিকার ২৩তম অবস্থানে। আইকিউএয়ারের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিং ঘণ্টাভিত্তিক পরিবর্তিত হয়।
বৃষ্টির সময় বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা ও কিছু দূষক নিচে নেমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বায়ুর মানের উন্নতি হতে পারে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য উৎস থেকে নতুন করে দূষণ বাড়তে পারে। ফলে এক দিনের তুলনামূলক স্বস্তিকে ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি বায়ুদূষণ পরিস্থিতির উন্নতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ডে একিউআই স্কোর ০ থেকে ৫০ হলে বায়ুর মান ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ হলে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’, ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে বায়ুর মান নির্ধারণে প্রধানত বস্তুকণা পিএম২.৫ ও পিএম১০, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই-অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩) বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর মধ্যে অতিক্ষুদ্র পিএম২.৫ কণা স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এগুলো শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে।
ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান উৎস নির্মাণকাজ ও যানবাহনের ব্যস্ততা। বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন গবেষণায় রাজধানীর বায়ুদূষণের সঙ্গে ইটভাটা, যানবাহনের নির্গমন এবং নির্মাণ ও সড়কের ধুলার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্বব্যাংক নথিতে ঢাকার পিএম দূষণে ইটভাটা, যানবাহনের নির্গমন এবং সড়ক ও নির্মাণকাজের ধুলাকে বড় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
