হৃদরোগের অবনতিতে মার্কিন জেল থেকে মুক্তি চান মাদুরোর স্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৫০ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
হৃদরোগের অবনতি ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি চেয়ে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস। তার আইনজীবীরা আদালতে করা আবেদনে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিউইয়র্কের একটি নির্দিষ্ট বাসায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে রাখার অনুমতি চেয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আদালতে দাখিল করা নথিতে আইনজীবীরা জানান, কারাগারে থাকার পর থেকে ফ্লোরেসের দীর্ঘদিনের হৃদ্রোগের সমস্যা আরও বেড়েছে। তাদের দাবি, বর্তমানে যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন, তার জন্য আটককেন্দ্রের পরিবেশ যথেষ্ট নয়। তাই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে গৃহবন্দি রাখার সুযোগ দেওয়া উচিত।
ফ্লোরেসের আইনজীবী মার্ক ডনেলি ও আন্দ্রেস সানচেজের প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্রুকলিনের ফেডারেল আটককেন্দ্র থেকে তাকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাসায় নেওয়া হবে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা থাকবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। বাসায় ভিডিও নজরদারি এবং ফোনকল রেকর্ডের ব্যবস্থাও রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ফ্লোরেসের মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস নামের হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা রয়েছে। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারের পর থেকে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশন তিনি পাননি। বর্তমানে তাকে কয়েক ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন সঙ্গে রাখতে হচ্ছে।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, কারাগারে থাকার সময় ফ্লোরেসের ওজন ২৫ পাউন্ডের বেশি কমেছে। চিকিৎসকেরা তার হৃদ্যন্ত্রের ক্যাথেটারাইজেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। এর পর আরও চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলেও তাদের দাবি। বড় ধরনের চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারবে না বলে মনে করছেন তাঁর আইনজীবীরা।
তবে কারাগারের চিকিৎসাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তোলেননি ফ্লোরেসের আইনজীবীরা। আদালতে দেওয়া নথিতে তারা বলেছেন, আটককেন্দ্রের কর্মীরা ফ্লোরেস ও তার স্বামীর সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করেছেন এবং তিনি সেখানে চিকিৎসাসেবাও পেয়েছেন। তাদের আপত্তি মূলত দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবেশ নিয়ে।
৬৯ বছর বয়সী সিলিয়া ফ্লোরেস ও তার স্বামী, ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, বর্তমানে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আটককেন্দ্রে রয়েছেন। মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদনের বিষয়ে এখনো বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আগামী জুনে মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, এপি
