পাকিস্তানকে কাঁদিয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা
স্পোর্টস ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:৪০ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার
সংগৃহীত ছবি
শ্রীলঙ্কা নারী এশিয়া কাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। পাকিস্তানের দেওয়া ১৩১ রানের লক্ষ্য ৮ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে আগামীকাল রোববারের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
গতকাল শুক্রবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। তবে শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। মাত্র ৫২ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।
সেখান থেকে পাকিস্তানের হাল ধরেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। দলের রান বাড়ানোর পাশাপাশি একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। ৩৬ বলে চারটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ৪৭ রানের ইনিংস খেলেন ফাতিমা। তার ব্যাটে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।
১৩১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। ৩৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় তারা। বল হাতে পাকিস্তানকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন ফাতিমা নিজেই। তিনি তুলে নেন দুটি উইকেট। সেই সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল।
একপর্যায়ে ভারত-পাকিস্তান ফাইনালের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কিন্তু পাকিস্তানের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা। পঞ্চম উইকেটে হর্ষিতা সমরবিক্রম ও কবিশা দিলহারির জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
হর্ষিতা ৩১ বলে ৩৬ রান করেন। এরপর কবিশা ৩৩ বলে করেন ৩৩ রান। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে শ্রীলঙ্কা। কমতে থাকে প্রয়োজনীয় রানের চাপ, বাড়তে থাকে লঙ্কানদের জয়ের সম্ভাবনা।
পাকিস্তান অবশ্য ম্যাচে ফেরার শেষ চেষ্টা করে। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ফাতিমা সানা হর্ষিতা ও কবিশা দুজনকেই সাজঘরে ফেরান। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত শক্ত করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা।
শেষ দিকে নীলাক্সিকা সিলভা ও কৌশিনী নুত্যাঙ্গনা কোনো বিপদ হতে দেননি। নীলাক্সিকা ১৮ এবং কৌশিনী ১০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ১৮.৪ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৩১ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।
বল ও ব্যাট দুই বিভাগেই পাকিস্তানের সেরা পারফর্মার ছিলেন অধিনায়ক ফাতিমা সানা। ব্যাট হাতে অপরাজিত ৪৭ রানের পর বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
তবে ফাতিমার ব্যক্তিগত নৈপুণ্য শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে হর্ষিতা ও কবিশার জুটি ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়ে শ্রীলঙ্কাকে পৌঁছে দিয়েছে শিরোপার লড়াইয়ে। আগামীকাল রোববার ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা।
