ঢাকা, মঙ্গলবার ১৫, সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:১৪:১৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ঢাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৩২ পিএম, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ থেকে স্নাতকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ প্রত্যাখ্যান করেছেন নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তাহসিন জাহান।

রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পাশে দাঁড়ায়নি- এমন অভিযোগ তুলে তিনি পুরস্কারটি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তাহসিন জাহান।

পোস্টে তাহসিন জাহান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের স্নাতকজীবনের শুরু থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনটির জন্য অপেক্ষা করেছিলেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত, চার বছরের কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর এই পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সেটি গ্রহণ করেননি।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে পুরস্কার অর্জনের জন্য তিনি এতটা পরিশ্রম করেছেন, সেটি প্রত্যাখ্যান করা তার জন্য সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না।

পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করে তাহসিন জাহান বলেন, কোনো পুরস্কারের মর্যাদা তার কাছে একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতার ঊর্ধ্বে নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরস্কারটি গ্রহণ করার অর্থ হতো এমন একটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি উদযাপন করা, যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসন নিজেদের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ শুধু রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেনি।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের আক্রমণের শিকার হন। কোনো ধরনের সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ত না থাকা সত্ত্বেও নিজের বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরেই তিনি হুমকির মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন। তার অভিযোগ, তাকে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিতে এবং স্নাতক থিসিস জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। একপর্যায়ে শারীরিক নিরাপত্তার কারণে তিনি ক্যাম্পাসেও ফিরতে পারেননি।

তাহসিন জাহান বলেন, ওই সময়ে তার বিভাগের কিছু শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সহযোগিতায় তিনি নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। এসব শিক্ষকের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

তবে একই পোস্টে তিনি ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’কে তথাকথিত আখ্যা দিয়ে তাদের সমালোচনা করেন এবং তার ওপর সংঘটিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তাহসিন জাহানের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি স্নাতক সম্পন্ন করতে এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ডে গিয়ে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে তার মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী সেই সুযোগ পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রশাসন নীরব থেকেছে এবং তার অভিযোগ অনুযায়ী ‘মৌলবাদী মবকে’ নীরবে সমর্থন করেছে ও এখনো করছে।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন নিজেদের শিক্ষার্থীদের সেই অধিকার রক্ষায় কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুর জন্য এসব প্রতিষ্ঠানেরও দায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার পতনের পর দেশে যদি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকে, তাহলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো কেন শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না- এমন প্রশ্নও তোলেন তাহসিন জাহান। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, এসব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এখন কী অজুহাত দেখানো হচ্ছে।

তাকে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাহসিন জাহান বলেন, তার অর্জনের পেছনে এসব শিক্ষকের অবদান রয়েছে এবং সেই কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য। তবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া পুরস্কার গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করতে পারেন না, যারা তার অভিযোগ অনুযায়ী হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি।

তিনি দাবি করেন, তার এই সিদ্ধান্ত কোনো পুরস্কারকে ছোট করার জন্য নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যৎ হারানো সহপাঠীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

পোস্টের শেষাংশে তাহসিন জাহান বলেন, ‘ন্যায়বিচার যদি সবার জন্য না হয়, তবে সেটি ন্যায়বিচার নয়।’ একই সঙ্গে তিনি ‘আমরাই বিকল্প, আমরাই পরিবর্তন’- এমন দাবি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, অন্যায়ের পরিবর্তে আরেকটি অন্যায় কখনো বিকল্প হতে পারে না।