ডিমে কিছুটা স্বস্তি, আটা-ময়দায় বাড়তি চাপ
রাতুল মাঝি
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ১২:২৫ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
ছবি: সংগ্রহিত।
রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মুরগি, মাছ ও গরুর মাংসে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। অন্যদিকে নতুন করে বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। সবজির বাজারে কোথাও কিছুটা স্বস্তি থাকলেও কয়েকটি সবজির দাম আবার বেড়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজারদরের তথ্যেও কয়েকটি নিত্যপণ্যের দামে পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে।
ডজনপ্রতি ডিম কমেছে ১০ টাকা
কয়েক দিন ধরেই তুলনামূলক চড়া থাকা ডিমের বাজারে আজ কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। গত সপ্তাহে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম আজ বাজারভেদে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি প্রায় ১০ টাকা কমেছে।
এক ক্রেতা বলেন, ‘ডিমের দাম একটু কমেছে, এটুকুই স্বস্তি। কিন্তু বাজারের অন্য জিনিসের দাম তো কমেনি। একটার দাম কমলে আরেকটার দাম বাড়ে।’
ব্রয়লার ১৯০ টাকা, সোনালি ৩১০-৩২০
মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। আজ ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর নির্ভর করে মুরগির দাম ওঠানামা করলেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লারের দাম প্রায় একই জায়গায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বন্যা, অতিবৃষ্টি ও গরমের কারণে অনেক খামারে উৎপাদন কমে যাওয়ায় ডিম ও মুরগির দাম সহজে কমছে না বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই
মাছ কিনতে গেলেও ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। পাঙাশের কেজি ২৩০ টাকা থেকে, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, রুই ২৭০ থেকে ৫০০ টাকা এবং পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে চিংড়ির দাম ৮০০-৯০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
এক মাছ বিক্রেতা বলেন, ‘মাছের দাম একদর থাকে না। সকালে এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। বাজারে মাছ বেশি এলে কমে, কম এলে বাড়ে।’
আটা-ময়দায় নতুন চাপ
নিত্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আটা-ময়দার দাম। রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোলা আটা কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মাসখানেক আগে ছিল প্রায় ৪৫ টাকা। খোলা ময়দা বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি। দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দার দাম ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের এক মুদিদোকানি জানান, ৫০ কেজির ময়দার বস্তা আগে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনলেও এখন তা কিনতে হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে বলে তার দাবি।
সরকারি কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যেও ১৮ সেপ্টেম্বরের বাজারদর প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের হিসাবে মোটা চাল, আটা, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের বাজারদর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সবজিতে মিশ্র চিত্র
সবজির বাজারে একদিকে কিছু পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম মোটামুটি স্থিতিশীল, অন্যদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম বেড়েছে বলে আজকের বাজার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাপ্তাহিক মূল্যায়নেও দেখা গেছে, চলতি সপ্তাহে অধিকাংশ পণ্যের দাম মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকলেও কিছু পণ্যে বৃদ্ধি ও হ্রাস ঘটেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ব্রয়লার মুরগি ও আলুর দাম কমার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাজারে এসে হিসাব মেলাতে হিমশিম
রাজধানীর বাজারগুলোতে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, একসঙ্গে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়তি থাকায় সংসারের বাজারের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ডিমের দাম কিছুটা কমলেও মাছ-মাংস, মুরগি ও আটা-ময়দার বাড়তি দাম সেই স্বস্তিকে অনেকটাই ম্লান করে দিচ্ছে।
এক মধ্যবিত্ত ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে ১ হাজার টাকা নিয়ে বের হলে আগে যে পরিমাণ বাজার করতাম, এখন সেটা হয় না। চাল, ডাল, তেল, মাছ-মাংস—সবকিছুর দাম হিসাব করে কিনতে হচ্ছে।’
সরকারি বাজারদর বিশ্লেষণেও দেখা যাচ্ছে, সামগ্রিকভাবে সরবরাহ পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের দামে ওঠানামা রয়েছে।
সব মিলিয়ে আজকের বাজারে ডিমে কিছুটা স্বস্তি এলেও আটা-ময়দা, মুরগি ও মাছের দামে সেই স্বস্তি নেই। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক বাজারের হিসাব এখনো বেশ চাপের মধ্যেই রয়েছে।
