উপনির্বাচন ঘিরে ফের প্রকাশ্যে তৃণমূল-কংগ্রেসের দূরত্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
উইমেননিউজ২৪
প্রকাশিত : ০৩:২৬ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও জাতীয় কংগ্রেসের দূরত্ব আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। আগামী ৬ অক্টোবর দুই আসনে ভোট হওয়ার কথা। এর আগে আসন সমঝোতা নিয়ে দুই দলের মধ্যে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত উভয় দলই পৃথকভাবে প্রার্থী দিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপির বিরুদ্ধে ভোটের সমন্বয়ের লক্ষ্যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। প্রস্তাবের কাঠামো ছিল—নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সুযোগ দেওয়া হবে এবং রেজিনগরে কংগ্রেস তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করবে। তবে কংগ্রেস সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে দুই দলের বক্তব্য এক নয়। কংগ্রেসের একাধিক নেতা তৃণমূলের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এমন কোনো প্রস্তাব বা যোগাযোগের কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ফলে আসন সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি শুভঙ্কর সরকার অবশ্য জানিয়েছেন, তৃণমূল যদি সত্যিই জোট বা সমঝোতা করতে চায়, তাহলে দুই আসনেই কংগ্রেস প্রার্থীদের সমর্থন করতে হবে। এরপর বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্যের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এদিকে কংগ্রেসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর তৃণমূলের নেতাদের বক্তব্যেও অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, কংগ্রেস যদি রাজ্যস্তরের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তৃণমূলের সঙ্গে সমন্বয় না করে, তাহলে সংসদেও দুই দলের একসঙ্গে চলার বাধ্যবাধকতা নেই। এর ফলে রাজ্যের বাইরেও দুই দলের রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
দুই আসনেই ইতোমধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। নন্দীগ্রামে সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রাবিউল আলম চৌধুরীকে প্রার্থী করা হয়েছে। কংগ্রেস নন্দীগ্রামে মিলন প্রধান এবং রেজিনগরে মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফিকে প্রার্থী করেছে।
শুধু তৃণমূল-কংগ্রেসের পৃথক লড়াই নয়, দুই আসনের নির্বাচন আরও জটিল হয়েছে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের পাশাপাশি বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরও দুই আসনে প্রার্থী দিয়েছে। একই সঙ্গে বিজেপি ও বাম দলগুলোও প্রার্থী দিয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে একাধিক রাজনৈতিক শক্তির সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আসনটি পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম কেন্দ্র ছিল। অন্যদিকে রেজিনগর মুর্শিদাবাদ জেলার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসন। এবারের উপনির্বাচনে দুই আসনেই তৃণমূল ও কংগ্রেস আলাদাভাবে লড়ায় বিরোধী রাজনীতিতে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে ৬ অক্টোবর ভোটের পর ৯ অক্টোবর ফল ঘোষণা হওয়ার কথা। ফলে মনোনয়নপর্ব শেষ হওয়ার পর এখন প্রচার ও ভোটের কৌশল নির্ধারণে জোর দিচ্ছে দলগুলো। একই সময়ে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ার বিষয়টি দুই আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
